প্রধান খবরবাংলাদেশ

১৭০ টাকা পারিশ্রামিকে চা-শ্রমিকেরা কাজে ফিরলেন

দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করার পর চা-শ্রমিকেরা ফিরেছেন কাজে। মজুরি বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। মৌলভীবাজার শহরে আনন্দ মিছিল হয়েছে। আনন্দ-উল্লাস করেছেন হবিগঞ্জের চা-শ্রমিকেরা। তারা মিষ্টিও বিতরণ করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল রবিবার সকাল থেকে নিজ নিজ বাগানে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা।

বাগানগুলোতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের পদচারণা ও হাঁকডাকে নীরব-নিথর বাগানগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। স্বস্তি ফিরেছে বাগানমালিকসহ সংশ্লিষ্ট মহলে। সিলেটের ১৩৬টি বাগানে চা-শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে।

প্রথাগতভাবে রবিবার চা-বাগানে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। তাই কিছু কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। তবে অনেক বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সোমবার থেকে বাগানের শ্রমিকেরা পুরোদমে কাজ শুরু করবেন বলে জানান বিভিন্ন বাগানের শ্রমিক নেতা ও সাধারণ শ্রমিকেরা।

দিকে বেশ কিছু শ্রমিক বলেছেন, বর্তমান বাজারমূল্যে তাদের ১৭০ টাকা দৈনিক মজুরিতে পোষায় না। কিন্তু যেহেতু প্রধানমন্ত্রী এটা ঠিক করেছেন, তাই আমরা তা মেনে নিলাম। সিলেট ভ্যালির কয়েক জন বাগান ব্যবস্হাপকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বিভিন্ন সেকশনে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকেরা কাজ করেন। কুলাউড়ার ৩৪টি বাগানের প্রায় সব কটি বাগানেই কাজ শুরু হয়েছে। চা সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল জানান, সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার থাকায় সব শ্রমিক কাজে নামেননি। সোমবার থেকে শতভাগ বাগান কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে।

লংলা ভ্যালির চা-শ্রমিকনেতা সাইদুল ইসলাম জানান, তার এলাকার সব কটি বাগানে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেছেন। একই কথা জানালেন জুড়ি ভ্যালির শ্রমিকনেতা কামল বুনার্জি। এদিকে রবিবার সকালেই সিলেটের মালনীছড়া, লাক্কাতুরা চা-বাগানের শ্রমিকদের কাজে ফিরতে দেখা যায়।

চা-শ্রমিক নেতারা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করায় খুশি চা-শ্রমিকরা। তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করেছেন। তাই শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন।’ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘অচলাবস্থার অবসান ঘটায় আমরা স্বস্তি বোধ করছি।’

মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চা-বাগানগুলোতেও শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া, ভুরভুরিয়া, জাগছড়া, কাকিয়াছড়া, খাইছড়া চা-বাগানের শ্রমিকেরা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। ভাড়াউড়া চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘চা-শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে যে মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেছেন, সেটাতে আমরা খুশি।’

ভাড়াউড়া চা-বাগানের শ্রমিক ময়না হাজরা বলেন, ‘অনেক আনন্দ লাগছে। এত দিন ঘরে বসে ছিলাম। এক বেলা খাইছি, আরেক বেলা খাই নাই।’ বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। প্রতিটি বাগানের শ্রমিকদের কাজে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সবাই কাজে যাচ্ছেন।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension