
৩ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ নিক্সন ও কিসিঞ্জারের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ
সিআইয়ের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া নিক্সন ও কিসিঞ্জারের ফোনালাপে পরিষ্কারভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চোখ বন্ধ করে নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে কৃত্রিম অন্ধত্বর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
যদিও আমেরিকার আর্চার কে ব্লাড তার কর্মজীবনে একজন কূটনীতিক যিনি ঢাকার বাংলাদেশে (সেসময় পূর্ব পাকিস্তানে) আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জেনারেল হিসেবে কাজ করেছিলেন। বাঙালিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘটিত নির্যাতন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠিয়েছিলেন ঐতিহাসিক ‘ব্লাড টেলিগ্রাম।’ কিন্তু আমেরিকা পাকিস্তানকে থামাতে কিছুই করে নি। তার পরিবর্তে তারা আর্চার কে ব্লাডকে আমেরিকায় ডেকে নিয়ে গিয়ে অন্য পদে বহাল করেছিল। ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমেরিকার প্রেসিডন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকার কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের ফোনালোচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকাটি সুস্পষ্টভাবেই দেখা যায়।
নিক্সন: আমাদের উদ্দেশ্য পাকিস্তানকে বাঁচানো, ব্যাস।
কিসিঞ্জার: ঠিকই বলেছেন, আসলেই ঠিক তাই।
নিক্সন: ঠিক আছে, তাহলে ক্যারিয়ার সেভাবেই চলতে থাকুক।
কিসিঞ্জার: ক্যারিয়ার সেভাবেই চলছে। চারটে জর্ডানের বিমান এরমধ্যেই পাকিস্তানে চলে গেছে। আরও বাইশটি আসছে। আমরা সৌদির সঙ্গে কথা বলছি, তুর্কি পাঁচটি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারমানে আমরা এটাকে এভাবে চালিয়ে নিতে পারব যতক্ষণ পর্যন্ত না এর নিষ্পত্তি না হয়।
নিক্সন: চীনারা যদি কিছু বাহিনী সরাতে পারে কিংবা কিছু বাহিনীকে হুমকি দিতে পারে তাহলে খুব উপকার হয়, আপনি কি তাদের বলতে পারেন?
কিসিঞ্জার: অবশ্যই।
নিক্সন: তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে অথবা তারা সরে যাচ্ছে, এক বা দুই, আপনি বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি?
কিসিঞ্জার: হ্যাঁ।
নিক্সন: ফান্সকে দিয়ে পাকিস্তানের কাছে কিছু বিমান কিভাবে বিক্রি করানো যায়?
কিসিঞ্জার: হ্যাঁ, ইতোমধ্যেই তারা সেটা করছে।
নিক্সন: তাদের এটা আরও অনেক আগেই করা উচিত ছিল। চীনাদের তাহলে ভারতীয়দের সতর্ক করা লাগত না।
কিসিঞ্জার: ওহ্, হ্যাঁ।
নিক্সন: তাদের শুধু কিছু সরাতে হত। একটা বিভাগ সরিয়ে দিল। আপনি জানেন, ধরুন কয়েকটা ট্রাক সরিয়ে দিল। কয়েকটা বিমান ওড়ালো। আপনি জানেনই, প্রতীকীভাবে নড়াচড়া করাটা। আর আমরা তো ফালতু জিনিস করছি না, হেনরি, আপনি সেটা জানেন।
কিসিঞ্জার: হ্যাঁ।
ইংরেজি থেকে অনূদিত-মুখা



