আঞ্চলিক

৫৩ বছরেও মান্দায় প্রসাদপুর খেয়াঘাটে নির্মিত হয় নি সেতু

এম,এ রাজ্জাক, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আত্রাই নদীর পূর্বপাড়ের মানুষ। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে নদী পারাপারের অপেক্ষায় আর থাকতে হবে না। ঘুরতে হবে না অন্তত তিন কিলোমিটার পথ। মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে পৌছানো যাবে।

রোগিদের সহজেই নেওয়া যাবে হাসপাতালে। কৃষকদের গণ্য পরিবহণে ভোগান্তি ও ব্যয় দুটোই কমবে। একই সঙ্গে উপজেলার প্রসাদপুর, গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের লোকজন সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, ওই খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য কয়েক দফায় মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণ ও সেতুর ধরণ নিয়ে একাধিক জরিপ কাজ করেছেন এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল। খুব শিগগিরই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী লোকজনকে। দেরিতে পারাপারের কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত দেড় লাখ মানুষ।

গাড়ীক্ষেত্র গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন নদী পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ সময় নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পারাপারে সমস্যার কারণে সময়মত গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। রাত ১০টার পর পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে তিন কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছুতে হয়।

প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু বলেন, প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১৫-১৬ হাজার লোক পারাপার হন। ভরা বর্ষায় এক সঙ্গে অতিরিক্ত লোক নৌকার চড়লে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ঝুঁকি এড়াতে নদী পার না হয়ে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করেন।

প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের হাসপাতালে নিতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদী পারাপারের অপেক্ষায় না থেকে শুটকির মোড় থেকে ফেরিঘাট হয়ে তিন কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে যেতে হয়। দীর্ঘ সময়ের কারণে এসব রোগীদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।

চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন আরও বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় গণ্য পরিবহণে একইভাবে ভোগান্তির শিকার হন কৃষকরা।

গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে সাতবাড়িয়া মোড় হয়ে গনেশপুর, মৈনম ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের লোকজন মহাসড়ক ব্যবহান না করে তাড়াতাড়ি উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারবেন। দক্ষিণ এলাকার লোকজনও একইভাবে সতিহাটসহ নওগাঁ শহরে যাওয়ার সুবিধা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, বর্তমান সাংসদ তৎকালীন সময়ের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক টিম মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণসহ সেতুর ধরণ নিয়ে কাজ করেন।

তিনি আরও বলেন, গতবছর ওই সেতু নির্মাণ কাজের সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মহোদয় সেতুটির সম্ভাব্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension