বিজিএমইএ একাংশের সংবাদ সম্মেলন: আস্থা বাড়ছে বৈশ্বিক ক্রেতাদের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগে বৈশ্বিক ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। তবে নিরাপত্তাহীনতায় কারখানায় উৎপাদন সচল রাখা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিজিএমইএর সাধারণ সদস্যবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন।
এ ছাড়া বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন দেওয়ার এবং বিজিএইএ বিশ্ববিদ্যালয় (বিইউএফটি) ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে তা বিজিএমইএকে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অনন্ত গার্মেন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক বাবলু, মাইশা ফ্যাশনের পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বেলায়েত হোসেন ও মোটেক্স ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ কবির।
এ সময় এস এম মান্নান কচির নেতৃত্বে সংগঠনটির বর্তমান পর্ষদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের দাবি তোলে সদস্যদের একাংশ। এ ছাড়া সম্প্রতি পুনর্গঠিত বর্তমান কমিটির সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বোর্ডকে তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ জন্য শিগগিরিই তাঁরা অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলেন, পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যার একজন আসামি। সহসভাপতি মো. মিরান আলীও শেখ রেহেনার ব্যাবসায়িক অংশীদার। এ ছাড়া আরো কয়েকজন সহসভাপতি ও পরিচালক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন হচ্ছে বিজিএমইএ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই আসে এই পোশাকশিল্প থেকে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিগত শাসকের কিছু ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
গত ৯ মার্চ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ক্ষমতায় আসে, যা সাধারণ সদস্যদের মনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ইনামুল হক খান বাবলু বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে এস এম মান্নান কচি ও তাঁর দলীয় ক্যাডার বাহিনী সংগঠনটির ক্ষমতা দখল করে। এ কাজে সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, খসরু চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম সহযোগিতা করেন। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও এর সঙ্গে জড়িত।
মোটেক্স ফ্যাশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ কবির বলেন, ‘বিজিএমইএ ও বিইউএফটি ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসরদের কাছ থেকে মুক্ত করতে হবে। বিইউএফটির ট্রাস্ট বাতিল করে বিজিএমইএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’ ২০ সদস্যর অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি এবং দ্রুত নির্বাচনের দেওয়ার দাবি জানান তিনি।’
মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও গণজোয়ারে বিজিএমইএ সভাপতি ও তাঁর বোর্ড সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ভূমিকা পালন করায় তাঁরা দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। বিগত সংকটে কারখানা খোলা নিয়ে সংগঠনটির কোনো সঠিক নির্দেশনা ছিল না এবং গত কয়েক সপ্তাহে বিজিএমইএ পর্ষদ ব্যবসা পরিচালনায় কার্যকর কোনো নির্দেশনা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির শিকার হন।’
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির বর্তমান কমিটির সহসভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলামকে বিজিএমইএর সভাপতি হিসেবে অপসারণ করা। অবিলম্বে তাঁর নিয়োগ বাতিল ও পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে হবে। সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দলীয় প্রভাবমুক্ত ২০ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিচালনা বোর্ড গঠন করা। এই বোর্ডকে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে অতি দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিজিএমইএর অতীতের সব দুর্নীতির স্বচ্ছ ও সঠিক তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিইউএফটি) বর্তমান চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ বর্তমান বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করা। বিগত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত মো. সেলিম তালুকদারসহ হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরকে ‘শহীদ সেলিম চত্বর’ ঘোষণা করা।



