
আটলান্টিক সিটিতে প্রবাসী সনাতন ধর্মীয় নারীদের সিঁদুর খেলা
সুব্রত চৌধুরী, আটলান্টিক সিটি: গত শনিবার (১২ অক্টোবর) শ্রী শ্রী গীতা সংঘের দুর্গোৎসবের শেষ দিন সিঁদুর খেলায় মেতেছিল নিউ জার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটির প্রবাসী হিন্দু নারীরা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে এদিন সকালে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা। সকালে পূজা অর্চনার পর দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। এরপরই হিন্দু বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে লাল টকটকে সিঁদুর নিবেদন করেন। পরে সেই সিঁদুর একে অপরকে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভ কামনা করেন। সেই সঙ্গে স্বামী সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন।
সনাতন হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে ‘সিঁদুর খেলা’।
দশমীর দিন সকালে পূজার পর থেকে শুরু করে দেবীকে বিদায়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে এই সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা হিন্দুদের রঙ খেলা থেকে কিছুটা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন অর্থাৎ দশমীর দিনে সর্বশেষ পালিত হয় ‘দেবী বরণ’ রীতি। বিবাহিত নারীরা সিঁদুরসহ অন্যান্য উপাচার সহকারে এই ‘দেবী বরণ’ করে থাকেন।
দেবী দুর্গা বিসর্জনের জন্য বিদায় দেওয়ার আগে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর অবশিষ্ট সিঁদুর দিয়ে তাঁরা একে অপরকে রাঙিয়ে দেন। মূলত এটিকে দেখা হয় সোহাগের কিংবা বিবাহিত নারীদের সৌভাগ্য কামনা স্বরূপ হিসেবে। বিবাহিত নারীরা একে অন্যকে লাল রঙের সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন। এই লাল রংকে ধরা হয় শক্তির প্রতিরূপ হিসেবে।
এই সিঁদুর খেলার অন্যতম গুরুত্ব হলো, বিবাহিত নারীরা তাঁদের সিঁদুরের স্থায়িত্ব অর্থাৎ তাদের স্বামীর দীর্ঘ জীবন কামনার উদ্দেশ্যেই সিঁদুর খেলা। তারা পরস্পরের সিঁথি, শাঁখা ও মুখাবয়ব সিঁদুর দিয়ে রাঙিয়ে দেন। একে অন্যের সৌভাগ্য কামনা করে এই সিঁদুর পরিয়ে থাকে। এটি অবিবাহিত মেয়েরাও এতে অংশ নেন। অবিবাহিত নারীদের বিবাহিত নারীরা এ জন্যই সিঁদুর পরিয়ে দেন যেন দেবীর আশীর্বাদে তাদের ভবিষ্যৎ বিবাহিত জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। এদিন প্রায় সব নারীই লাল রংয়ের শাড়ি পরে থাকেন।



