প্রধান খবরভারত

যুক্তরাষ্ট্রে মামলার পর গৌতম আদানিকে গ্রেপ্তারের দাবি রাহুল গান্ধীর

আদানি শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভারতে ওই শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

একটি বিবৃতিতে আদানি গোষ্ঠীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন বিচার বিভাগ যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি ‘আইন মেনে চলা’ সংস্থা হিসেবে তারা বিদ্যমান সব নিয়মকানুনের প্রতি ‘কমপ্লায়ান্ট’ বলেও দাবি করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

অন্যদিকে ভারতের সংসদে বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস এমপি রাহুল গান্ধী এদিন দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, শিল্পপতি গৌতম আদানিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত এবং তিনি যেসব অন্যায় করেছেন তার জন্য শাস্তিও ভোগ করা দরকার।

গান্ধী অভিযোগ করেছেন, ‘কিন্তু মুশকিল হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই তার প্রিয় গৌতম আদানিকে আড়াল করে চলেছেন।’

এদিকে মার্কিন আদালতে গৌতম আদানিসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হওয়ার খবর সামনে আসার পর ভারতের শেয়ার বাজারে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর বিভিন্ন শেয়ারের দরে ব্যাপক দরপতন লক্ষ করা গেছে। আদানি এনার্জি সলিউশনস, আদানি টোটাল গ্যাস, আদানি গ্রিন এনার্জি, আদানি পাওয়ার, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি পোর্টস, আদানি উইলমারসহ বিভিন্ন শেয়ারের দর বাজার খোলার পরই প্রায় এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।

অত্যন্ত গোপনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়ার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ সংগ্রহের জন্য আদানিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

৬২ বছর বয়সী আদানির বিরুদ্ধে বুধবার নিউ ইয়র্কে এসব ফৌজদারি অভিযোগ করা হয়েছে। ভারতের অন্যতম ধনীদের একজন আদানির ব্যাবসায়িক সাম্রাজ্য বন্দর, এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিস্তৃত।
ভারতের প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তার নবায়নযোগ্য জ্বালানির কম্পানির জন্য লটারি জিততে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিল। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই কম্পানি ২০ বছরে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি লাভ করবে বলে আশা করা হয়েছিল।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র আদানির এই কম্পানিতে অনুসন্ধান শুরু করেছিল। কিন্তু তারা এতে বাধাগ্রস্ত হয়। তারা অভিযোগ করেছেন, কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও বন্ড সংগ্রহ করেছেন।

এ ছাড়া ঘুষের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঘুষবিরোধী অনুশীলন ও নীতি সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি ব্রায়ান পিস এক বিবৃতিতে অভিযোগ ঘোষণা করে বলেছেন, ‘অভিযুক্ত হিসেবে আসামিরা বিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার জন্য একটি বিস্তারিত স্কিম সাজিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করার জন্য ঘুষের স্কিম নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছিল। আমার অফিস আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের আর্থিক বাজারের যে উচ্চ নৈতিক মান রয়েছে সেটিকে জলাঞ্জলি দিয়ে যারা অর্থ উপার্জন করতে করতে চায় তাদের হাত থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, ঘুষের স্কিম আরো এগিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে আদানি ব্যক্তিগতভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদানি। বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন, আদানি তার এই রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে উপকৃত হচ্ছেন। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেখানকার অ্যাটর্নি পদে নিয়োগ দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই এই অভিযোগটি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আদানি ট্রাম্পকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension