
যখন স্মৃতির কোনো সঙ্ঘাত ছিল না
এমন কী কোনো স্মৃতিই ছিল না
প্রবল পৃথিবী ছিল কালের গহ্বরে
শুধু তুমি ছিলে কার্য ও কারণে হে আমার প্রাচীন প্রেমিকা।
দিন গেল রাত গেল পৃথিবী প্রশান্ত হলো
অতঃপর তুমি এলে দেবী
আঁচলের অবগুণ্ঠনে নিয়ে এলে অন্ধকার
প্রথমে শেখালে প্রেম
বাধ্য বালকের মতো আমি শিখলাম ভালোবাসা।
আমার বেদনা ছিল না
আবেগ ছিল না
কামনার আকাঙ্ক্ষা ছিল না
হৃদয়ে ছিল কোটি কোটি বছরের অলসতা।
তুমি এলে নূপুরের সুর তুলে
পৃথিবী উঠল কেঁপে
আর কেঁপে উঠল আমার হৃদয়
অথচ আশ্চর্য হাসি ছড়ালো পূর্ণিমা
ফুলের বাহারে মুগ্ধ হলো মন
পাখির কাকলি কানে বাজালো বিস্ময়
দু’চোখের চঞ্চলতা দিয়ে তুমি জ্বেলে দিলে প্রণয়ের শিখা।
কেটে গেল কালবেলা
সাগরের বুকে নাচলো জোয়ার
বরফের শুভ্র চাদরে ঢাকলো হিমালয়
সূর্যের উত্তাপে আমি দেখলাম যা-ছিল দেখার
আর বুঝলাম সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কী।
অথচ এখন তুমি
আমাকে দিয়েছো ছেড়ে পৃথিবীর পথে
এখন আমার দিন নেই রাত্রি নেই
প্রজ্ঞায় প্রশান্তি নেই
আকাশে এখন চাঁদ নেই
পলাতক দুপুরের সূর্য
বিপর্যস্ত বেদনায় পরিপূর্ণ মন
যেহেতু তুমিই আজ আর নেই পাশে।
কাঁদে আজ কৃষ্ণচূড়া
ভাষাহীন কবি’র কলম
আজ আমি তৃষ্ণার্ত ভীষণ
জল দাও দেবী হোক না বিষের ফোঁটা
আজ আমি পেতে চাই ব্যথার আনন্দ।
ভালোবেসে বুঝেছে হৃদয়
তোমার সকল প্রেম যেন প্রহেলিকা
তুমি শুধু নিতে জানো আত্মার তর্পণ
ভালোবেসে কাছে এসে চলে গেছো দূরে
অনেক খুঁজেছি আমি তোমার উপমা
তোমার হৃদয় নেই তাই অভিধানে নেই ক্ষমা
অবশেষে জানলাম নারী তুমি ঊর্বশী তুমি তো তিলোত্তমা!



