নিউ ইয়র্ক

টেক্সাসকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে নিউ ইয়র্কে স্বাধীন আসন পুনর্বিন্যাস বাতিলের আহ্বান হোকুলের


শাহ্ জে. চৌধুরী | নিউ ইয়র্ক

নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। সম্প্রতি অ্যালবানিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন—নিউ ইয়র্কের স্বাধীন আসন পুনর্বিন্যাস (Independent Redistricting) ব্যবস্থা পরিত্যাগ করা উচিত, এবং তার পরিবর্তে এমন একটি পদ্ধতির দিকে যাওয়া উচিত যা “রাজনৈতিক বাস্তবতা” বিবেচনায় আরও কৌশলগত।

চমকপ্রদভাবে, হোকুল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন টেক্সাসকে—একটি রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্য, যেখানে দলীয়ভাবে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

“অন্য রাজ্যগুলো, বিশেষ করে টেক্সাস, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ম বদলাতে দ্বিধা করছে না,” বলেন হোকুল।
“আমরাও যদি আমাদের মূল্যবোধ রক্ষা করতে চাই, তাহলে শুধু নৈতিকতা নয়—কৌশলেও হতে হবে শক্তিশালী।”

স্বাধীন পদ্ধতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

নিউ ইয়র্কে স্বাধীন আসন পুনর্বিন্যাস ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল দলীয় প্রভাব কমিয়ে ভোটারদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের পরিবর্তে একটি স্বতন্ত্র কমিশন মানচিত্র তৈরির দায়িত্ব পায়।

তবে সেই কমিশন কার্যকারিতার অভাবে বারবার সমালোচিত হয়েছে—পর্যাপ্ত ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারায় শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ফিরে যায় আইনসভায়, যা অনেকের কাছে এই ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া: গণতন্ত্র রক্ষায় হুমকি?

হোকুলের বক্তব্যের পরপরই স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো সরব হয়ে ওঠে। কমন কজ নিউ ইয়র্কের নির্বাহী পরিচালক সুজান লার্নার বলেন,
“ভোটারদের সুরক্ষায় স্বাধীন পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য। টেক্সাস যেখানে দলীয় সীমা নির্ধারণ করে গেরিম্যান্ডারিং করছে, সেই মডেল অনুসরণ করা আত্মঘাতী।”

এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাও গভর্নরের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে জনআস্থার বড় ক্ষতি হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থা দলীয় স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে।

ক্ষমতা বনাম নীতির সংঘর্ষ

আসন পুনর্বিন্যাসের এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়—এটি স্পষ্টতই ক্ষমতা ও নীতির দ্বন্দ্বকে সামনে আনছে। স্বাধীন কমিশনের পক্ষে যারা, তারা বলছেন এটি জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। অপরদিকে, কিছু ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ মনে করেন, একতরফা সততার কারণে অন্য রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা পিছিয়ে পড়ছে।

হোকুলের ভাষায়, “আমরা একতরফাভাবে নিরস্ত্র থাকতে পারি না। আমাদের মূল্যবোধ যেমন জরুরি, তেমনি ক্ষমতা ধরে রাখা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”

২০২৬ সালের পরবর্তী পুনর্বিন্যাস চক্রকে সামনে রেখে এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউ ইয়র্কে নির্বাচন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তা নির্ধারণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension