আন্তর্জাতিক

ভারতকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

ভারতের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাবে ‘দ্রুত ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ জানাবে বলে বুধবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নয়াদিল্লির উসকানিমূলক বক্তব্য আঞ্চলিক শান্তি অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অঙ্গীকারটি করা হয়েছে জেনারেল সদর দপ্তরে (জিএইচকিউ)-এ অনুষ্ঠিত ২৭২তম কোর কমান্ডার সম্মেলনে (সিসিসি)। এখানে সভাপতিত্ব করেন সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির।

বৈঠকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অযৌক্তিক বক্তব্য’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সেগুলোকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য যুদ্ধ উন্মাদনা ছড়ানোর একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

সভায় চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেমন ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাস ও অপরাধচক্রের যে বিদ্যমান যোগসূত্র রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না—যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন।’

এই মন্তব্যগুলো এসেছে এমন এক সময়, যখন ভারতের সামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানবিরোধী মন্তব্য বাড়িয়ে তুলেছেন।

গত ৩ অক্টোবর ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান অমর প্রীত সিং দাবি করেন, মে মাসের চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতে ভারত পাকিস্তানের পাঁচটি যুদ্ধবিমান—এফ-১৬ ও জেএফ-১৭ ধ্বংস করেছে। তবে তিনি এর কোনো প্রমাণ দেননি।

মে মাসের সেই সংঘর্ষ, যা কয়েক দশকের মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ, শুরু হয় কাশ্মীরের পাহালগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর এক হামলা থেকে। ভারত দাবি করে, এ হামলার পেছনে ছিল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠী।

এরপর ভারত তিন দিন ধরে পাকিস্তানের ভেতরে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অভিযান ‘বুনইয়ান-উম-মারসুস’ চালিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের জবাব দেয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযানে ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান—যার মধ্যে তিনটি ছিল রাফায়েল—এবং বহু ড্রোন গুলি করে নামানো হয়। ৮৭ ঘণ্টা পর, ১০ মে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension