ভারত

রামমন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথের দানবাক্সের টাকা চুরি

অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্সের অর্থ কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত বদ্রীনাথ ধামেও ভক্তদের দেওয়া দানের টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই পবিত্র তীর্থস্থানে ভক্তদের দানকৃত অর্থ ও উপঢৌকন চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সত্য উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) এক জরুরি আদেশে পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের দেওয়া অর্থ জালিয়াতি ও চুরির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে মন্দির কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা সন্দেহভাজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ‘ভৈরব সেনা’ নামক একটি স্থানীয় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন বদ্রীনাথ ধামের এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি জনসমক্ষে আনে। সংগঠনটি অভিযোগ করে, মন্দির কমিটির সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভৈরব সেনার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এদিকে অভিযুক্ত ওই কর্মচারীকে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিকেটিসি সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, উক্ত ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী নন। তিনি শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির একজন নিয়মিত (সরকারি) কর্মচারী। এর আগেও তিনি মন্দির কমিটির তিনজন সাবেক সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দ্বিবেদী ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর যদি কোনো স্তরের কর্মচারী বা কর্মকর্তা দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর এবং কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহান সিং রাঙ্গড় মিডিয়াকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চুরির অভিযোগ ওঠার পরপরই বদ্রীনাথ মন্দির প্রাঙ্গণের সব সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজগুলো খুব একটা স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও, পুরো বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় আবেগের কথা বিবেচনা করে মন্দির কমিটির সভাপতিকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি গঠিত হওয়ার পরপরই তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। যদি তদন্তে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন, ১৯৩৯’ এবং ‘কর্মচারী আচরণবিধি’ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট বিভাগীয় ও আইনি মামলা দায়ের করা হবে।

সোহান সিং রাঙ্গড় আরও বলেন, বদ্রীনাথ ধামের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস ও ভক্তি জড়িত। তাই কোনো ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension