
সৌদির কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরবের কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস’বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার (১৫ জুলাই) এমনটা জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ হাজার পর্যন্ত এপিকেডব্লিউএস-২ এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) গাইডেন্স সেকশন এবং আরও ১০ হাজার এপিকেডব্লিউএস-২ এয়ার-টু-গাউন্ড (আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য) গাইডেন্স সেকশন কেনার অনুরোধ জানিয়েছিল।
এই চুক্তির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হবে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান একটি নন-ন্যাটো মিত্র দেশের নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
অস্ত্র চুক্তিটি সৌদি আরবের নিজেদের মাতৃভূমি প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যতের যে কোনো সামরিক হুমকি মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া এর মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও ন্যাটো বাহিনীর সাথে সৌদি আরবের সামরিক আন্তঃকার্যকারিতাও আরও উন্নত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি সৌদি আরবের সামরিক বিমানগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়াবে এবং আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে নিজেদের আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে জোরদার করবে।
এই বিশাল অস্ত্র চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’। চুক্তির আওতায় প্রোগ্রাম ও প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা এবং প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার জন্য ১৫ জন মার্কিন সরকারি প্রতিনিধি এবং ১৫ জন আমেরিকান ঠিকাদার প্রতিনিধিকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গগত, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা বেশ দীর্ঘদিনের ও গভীর। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মিশরে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী একটি যৌথ ‘লাইভ ফায়ার’ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল, যা দেশ দুটির ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারিত্বেরই প্রতিফলন।
সূত্র: আল আরাবিয়া।



