ভারত

চোখে ৩, শরীরে ২০০ ছররা গুলি: আহত শিক্ষার্থীকে নিয়ে থানায় রাহুল গান্ধী

ছাত্রদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা জানতে চেয়ে পেলেট গানে (ছররা গুলি) আহত এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে তিনি এ ঘটনায় এফআইআর করার দাবি জানান।

পুলিশ এফআইআর করতে রাজি না হলে রাহুল গান্ধী আহত সাহিল লোচাবকে নিয়ে থানার বাইরে ধর্নায় বসেন। পরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সেখানে যোগ দেন। দিল্লি পুলিশ জানায়, ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত করতে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তবে রাহুল গান্ধী বলেন, এফআইআর না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় সাহিলের ওপর পেলেট গান চালানো হয়। এতে তার একটি চোখের দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে দিল্লি পুলিশ ছাত্রদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পেলেট গান থেকে একসঙ্গে অনেক ছোট ধাতব বা রাবারের পেলেট ছোড়া যায়।

এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এর ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে এবং কোমরের নিচের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর কথা।

পেলেট গান ও শক ব্যাটন র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সরঞ্জামের অংশ। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে আরএএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এই ঘটনায় পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সিআরপিএফ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

পরে আহত সাহিলকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি নীল ঢাকনাওয়ালা একটি ছোট প্লাস্টিকের বাক্স বের করেন। বাক্স খুলে ভেতরের পেলেটগুলো সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো পেলেট। ভালো করে দেখুন।’

এরপর রাহুল প্রশ্ন করেন, ‘এগুলো কোথা থেকে এসেছে?’ নিজেই উত্তর দিয়ে বলেন, ‘এগুলো ওর শরীর থেকে বের হয়েছে।’

রাহুলের অনুরোধে সাহিল তার টি-শার্টের হাতা গুটিয়ে শরীরের আঘাত দেখান। এ সময় রাহুল দাবি করেন, সাহিলের শরীরে প্রায় ২০০টি পেলেট রয়েছে এবং তার চোখেও তিনটি পেলেট রয়েছে। পরে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এইমস) চিকিৎসা প্রতিবেদন দেখিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, সাহিলের শরীরে ২০০টির বেশি পেলেট পাওয়া গেছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, পুলিশ যদি এসব পেলেট না ছুড়েও থাকে, তাহলে অন্য কেউ তা ছুড়েছে। এমনকি সাহিল নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে থাকলেও একটি অপরাধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাহুল বলেন, তারা শুধু একটি এফআইআর চান এবং এই পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার চান।

রাহুলের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই কংগ্রেস এই বিষয়টি সামনে এনেছে।

রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, কোনো অনুমতি বা আগাম তথ্য ছাড়াই রাহুল গান্ধী পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধর্নায় বসেছেন। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, তিনি যে ঘটনার কথা বলছেন, সেটি নিয়ে ইতোমধ্যে এফআইআর হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করেছে।

রাহুল গান্ধীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রশ্ন করেন, তিনি আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে চান কি না। কংগ্রেসের ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে অবস্থানের কারণে দলটি চাপে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের ওপর ‘বর্বর হামলার’ জন্য জবাবদিহি দাবি করেন।

তিনি জানতে চান, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গানসহ ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের অনুমতি অমিত শাহ দিয়েছিলেন কি না। জুলাই মাসে রাহুল গান্ধী ১৯ বছর বয়সী সাহিল লোচাবকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদের দিকে মিছিল করার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সাহিলকে পেলেট গান দিয়ে গুলি করেন।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওই মিছিলটি বের করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের সামনে রাহুল গান্ধী বলেন, বিক্ষোভকারীরা কখন পেলেট গানে আহত হয়েছেন, সেটি স্পষ্ট করা দরকার। তিনি দাবি করেন, সাহিল হাতে তেরঙ্গা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সময় পেলেট গানে আহত হয়েছিলেন।

এ সময় সাহিলও রাহুলের পাশে ছিলেন। রাহুল তার শরীরের আঘাতগুলো সাংবাদিকদের দেখানোর জন্য সাহিলের টি-শার্ট তুলে ধরেন। এর আগে জুলাই মাসেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে কংগ্রেসের একটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী।

বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। রাহুল তখন রাস্তায় বসে পড়েন এবং সেখান থেকে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension