
রোনালদোর পর্তুগাল দলে ফেরা নিয়ে বোন বললেন, ‘হ্যাঁ-এর চেয়ে না-এর পাল্লাই ভারী’
পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই ফরোয়ার্ডের ফেরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তার বোন এলমা আভেইরো। তার মতে, পর্তুগিজ জার্সিতে রোনালদোর ফেরার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি।
গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশার কথা জানান এলমা। জাতীয় দলে তার ভাইয়ের ফেরার সুযোগ কতটুকু— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ-এর চেয়ে না-এর পাল্লাই ভারী।’
পর্তুগিজ এই মহাতারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে টানাপোড়েন ও চাপা উত্তেজনা চলছে, তা স্বীকার করে রোনালদোর বোন যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রিস্তিয়ানো ও জেসুস— দুজনই কষ্ট পাচ্ছেন। পুরো বিষয়টি এখন থমকে আছে। দেখা যাক, সামনে কী হয়।’
বিশ্বাসঘাতকতার পর স্বাভাবিক হওয়া কঠিন
কোচ ও রোনালদোর মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ গলার সুযোগ খুব একটা দেখছেন না এলমা। এই বিরোধে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে, তা সহজে মেটার নয় বলেই মনে করেন তিনি।
পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এলমা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘বিবাদ মিটিয়ে ফেলা? খুবই জটিল বিষয়। যখন আপনার সঙ্গে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন।’
ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আচমকা পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর দীর্ঘ এক পোস্টের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবলার সেখানে কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সরাসরি অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকে দুজনের সম্পর্ক আদৌ জোড়া লাগবে কি না সেটা নিয়ে ক্রীড়ামহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে পর্তুগালের সব আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন রোনালদো। ফলে কোচের সঙ্গে এই বিরোধকে জাতীয় দলে তার ভবিষ্যতের জন্য বড় এক বাঁকবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পর্তুগালের ভক্ত-সমর্থকদের একাংশের আচরণের কড়া সমালোচনাও করেন এলমা। তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয়। কারণ পর্তুগালের মানুষ দুর্ভাগ্যবশত অতীত ভুলে যায় এবং মনে করে, বর্তমানে সবকিছু অন্যভাবে করা উচিত। আমার কিছু বলার ভাষা নেই। ভাইকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখা খুবই কষ্টের। যাদের এমনটা প্রাপ্য নয়, সে তাদেরই একজন।’
এর আগেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এলমা। সেখানে রোনালদোর প্রতি সম্মান ও কাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছিলেন, ‘সিআরসেভেনের আরও বেশি সম্মান প্রাপ্য ছিল। জাতীয় দলের প্রয়োজন ছিল আরও ভালো কাঠামোর। আর পর্তুগিজ সাংবাদিকতার দরকার ছিল সুস্থ প্রতিযোগিতা, কম গুঞ্জন।’
এমনকি দেশের মানুষের একাংশের প্রতি ঈর্ষা ও অকৃতজ্ঞতার অভিযোগও তোলেন এলমা। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কোচের সঙ্গে রোনালদোর বিরোধ পরিবারকেও গভীরভাবে আক্রান্ত করেছে।
ফেডারেশন চাইছে প্রত্যাবর্তন
পরিস্থিতি জটিল হলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা পাওয়া রোনালদোর জন্য পর্তুগাল জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সমাধান নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে চাননি কোচ জেসুস। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমার নতুন করে কিছু বলার নেই।’
অন্যদিকে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা জাতীয় দলের অধিনায়ককে দ্রুত দলে ফেরানোর ব্যাপারে স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে স্বাভাবিক একটি শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া থাকবে এবং স্বাধীন বিভাগ সেটি মূল্যায়ন করবে। তবে এফপিএফের স্পষ্ট চাওয়া হলো— অধিনায়ক যেন দ্রুততম সময়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।’
তার কথায় এটা পরিষ্কার, কোচ-খেলোয়াড় উত্তেজনার মধ্যেও বিষয়টিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে চায় দেশটির ফুটবল বোর্ড।
আগামী মাসে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ রয়েছে। ফলে সবার নজর এখন রোনালদোর দিকে— তিনি কি শেষ পর্যন্ত দলে ফিরবেন, নাকি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই অনাড়ম্বরভাবে শেষ হতে যাচ্ছে তার গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার?



