যুক্তরাষ্ট্র

মিনেসোটায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জালিয়াতি

অটিজম সেবা ও শিশুদের খাবার কর্মসূচিতে প্রতারণার মামলায় দোষ স্বীকার। অটিজম সেবার নামে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আশা ফারহান হাসান ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। শিশুদের খাবার কর্মসূচির প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলারের জালিয়াতিতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।

শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের সেবার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং শিশুদের খাবার কর্মসূচিতে জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন আশা ফারহান হাসান (২৮)। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাঁর দোষ স্বীকারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, হাসান মিনিয়াপোলিসভিত্তিক স্মার্ট থেরাপি এলএলসি পরিচালনা করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব হিউম্যান সার্ভিসেস এবং ইউকেয়ারের কাছ থেকে অটিজম-সংক্রান্ত সেবা বাবদ ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানান।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ করা হয়নি—এমন সেবার জন্যও অর্থ দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি কিছু বিলিংয়ে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং সেবা প্রদানকারীদের যোগ্যতা ও অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া, হাসানের বিরুদ্ধে ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ নামের শিশুদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতির সংশ্লিষ্টতার কথাও জানায় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্মার্ট থেরাপির মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত, পরে ১ হাজার ২০০টি পর্যন্ত খাবার সরবরাহের দাবি করা হয়েছিল। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ খাবারের হিসাব দেখিয়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার ফেডারেল তহবিল চাওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান।

তবে মামলার অভিযোগ ও আদালতে দোষ স্বীকারের বিষয়টি আলাদা করে দেখা জরুরি। হাসান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অটিজম সেবা-সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলায় ওয়্যার ফ্রডের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। শিশুদের খাদ্য কর্মসূচির অর্থের বিষয়টিও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাঁর সংশ্লিষ্টতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে এই মামলা মিনেসোটায় জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তদারকি ও অর্থ বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের সহায়তার জন্য নির্ধারিত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির গুরুত্বও সামনে এসেছে।

২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাসানের সাজা ঘোষণার তারিখ তখনও নির্ধারিত হয়নি।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার প্রকাশিত তথ্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension