
ভোটের আগেই ফল নিয়ে সন্দেহ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক; ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ফল চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ
হোসনেআরা চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা নির্বাচনে জালিয়াতির আশঙ্কা তুলে ধরে ভোটের ফল নিয়ে আগাম সন্দেহ সৃষ্টি করছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে এই প্রচারণা নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
২৭ অক্টোবর প্রকাশিত The Washington Post-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০০টি প্রভাবশালী ডানপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, পডকাস্ট ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলতি বছর নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ৭ হাজারের বেশি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। এসব বক্তব্যে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া এবং ডাকযোগে ব্যালটে জালিয়াতির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত। প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ঘটনায় প্রাথমিক অভিযোগ ও পরবর্তী তদন্তের ফলের মধ্যে পার্থক্যও উঠে এসেছে।
জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে প্রমাণ
নেভাদা, জর্জিয়া ও নিউ জার্সির উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় অনাগরিক থাকার অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সব সময় অবৈধ ভোটদানের প্রমাণ দেয় না। নিউ জার্সিতে মোটরযান বিভাগের সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে অনাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল; তবে নিবন্ধিত হওয়া আর ভোট দেওয়া এক বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া বেআইনি। একই সঙ্গে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই করতে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ঘটনা দিয়ে ব্যাপক জালিয়াতির দাবি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
আইনি লড়াই ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী নিয়ম ও ব্যালটসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের কিছু নিয়ে আদালতে বিরোধ চলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা এবং ভোটের ফল নির্ধারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃত্ব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ভোট গণনার আগেই জালিয়াতির অভিযোগ বারবার প্রচার করা হলে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, কঠোর ভোটার যাচাই ও নির্বাচনী নিরাপত্তার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা জরুরি।
ফল মেনে নেওয়া নিয়ে জনমনে সংশয়
The Washington Post, এবিসি নিউজ ও ইপসসের একটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক আত্মবিশ্বাসী যে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হলে ট্রাম্প ফলাফল মেনে নেবেন।
নির্বাচনে ভোট গণনা, ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ৩ নভেম্বরের ভোটে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাও বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।
সূত্র: The Washington Post, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।



