যুক্তরাষ্ট্র

শিশুর যৌন নিপীড়নের অপরাধী, নাগরিকত্ব হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

নাগরিকত্ব আবেদনে তথ্য গোপন ও মিথ্যা ঘোষণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত লাইবেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি; আদালতের নির্দেশ, নিজ খরচে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে

হোসনেআরা চৌধুরী :
শিশুকে যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষ স্বীকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাইরিল ডোমাকুইক ক্লেমেন্সের (৭২) মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন ফেডারেল বিচারক। একই সঙ্গে তাঁকে নিজ খরচে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) জানিয়েছে, লাইবেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ক্লেমেন্সের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব জালিয়াতির তদন্তে সংস্থাটি সহায়তা করেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেডারেল আদালত তাঁকে ইতিমধ্যে ভোগ করা কারাবাসের সমপরিমাণ সাজা (time served) দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর অর্জিত মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল এবং নিজ খরচে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ জুন ক্লেমেন্স নাগরিকত্ব জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির ঘোষণা দেন নর্থ ক্যারোলাইনার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি এলিস বয়েল।

নাগরিকত্ব আবেদনে মিথ্যা তথ্য

আদালতের নথি অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন ও USCIS-এর সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্স শপথের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন। অন্য কাউকে জোরপূর্বক বা জবরদস্তির মাধ্যমে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি ‘না’ উত্তর দেন। একইভাবে, গ্রেপ্তার না হলেও কোনো অপরাধ করেছেন, অপরাধে সহায়তা করেছেন কিংবা অপরাধের চেষ্টা করেছেন কি না, সে প্রশ্নেও তিনি ‘না’ বলেন।

২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুকে নিপীড়ন

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে ক্লেমেন্স শিশুর প্রতি অশালীন আচরণের তিনটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

তিনি ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি শিশুকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেন। নির্যাতন শুরুর সময় শিশুটির বয়স ছিল মাত্র চার বছর।

ওই মামলায় রাজ্য আদালত তাঁকে এক বছর চার মাস থেকে দুই বছর পাঁচ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশ দেন।

তদন্তে উঠে আসে, নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার আগেই ক্লেমেন্স এসব অপরাধ করেছিলেন। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। USCIS কর্মকর্তারা তাঁর আবেদন অনুমোদনের সময় এসব অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

যৌথ তদন্তে উন্মোচিত জালিয়াতি

মামলাটি তদন্ত করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) এবং এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস (ERO)-এর ডকুমেন্ট অ্যান্ড বেনিফিট ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। তদন্তে অংশ নেয় USCIS-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটও।

USCIS জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘অপারেশন ফলস হ্যাভেন’-এর অংশ। এই চলমান উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিশু নিপীড়নকারীসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-সুবিধা লাভ করেছে।

অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত জালিয়াতি বা অনিয়মের সন্দেহ হলে USCIS-এর নির্ধারিত অনলাইন টিপ ফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS)

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension