
আসলে একটা সময় আসে যখন আপনাকে ছাড় দিতে হবে এবং একটা আপোষরফায় পৌঁছতে হবে। আর এই আপোষরফা করলেন মানেই যে আপনি আপনার ভুলগুলো স্বীকার করে নিয়ে পরাজয় মেনে নিলেন, তাও কিন্তু নয়। এর অতিসহজ অর্থটি হল, আপনার বিজয়ের চাইতে আপনার স্ত্রীর অথবা স্বামীর মানসিক সুখ-শান্তি আপনার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিষয় হল, আপনি শুধুই আপনাদের দাম্পত্য দ্বন্দ্ব-কলহ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন।
ফলে যখন আপোষরফার এ কাজটা আপনি সঠিক ও সফলভাবে করে ফেলতে পারবেন, তখনই আপনি আপনার স্ত্রীর অথবা স্বামীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস অর্জন করবেন, তখন সম্পর্ক ভালোবাসায় ঝঙ্কার তুলবে। আর আপনাদের দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠবে সফলতায় পূর্ণ।
আপোষ বিষয়টার মধ্যে অনেককিছুই রয়েছে। রয়েছে তিক্ততা, রয়েছে বিরক্তি, রয়েছে মেজাজ খারাপ বা রাগ; এসব থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হল নিশ্চুপ থাকা।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কর যে দ্বন্দ্ব, সে জায়গাটিতে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিশেষ কোন একটা দিন, যেমন ভ্যালেন্টাইন ডে, বিয়ে বার্ষিকী বা জন্মদিনের জন্যে বসে থাকবার দরকার নেই। এই দিনগুলোতে আপনি বিশেষ যা করতে চান সেটি এখনই করুন, কেননা ওই বিশেষ আয়োজন তখন নয়, এখনই দরকার।
বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে যারা দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব ও জটিলতাকে টেনে নিয়ে চলেছেন, ম্যারেজ কাউন্সিলারাও তাদেরকে এক ধরনের আপোষ করে চলার পরামর্শ দেন, যেন তারা পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠতে পারেন।
যত্নশীল হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ছোটখাট কাজকর্মে সাহায্য করলেও হতে পারে, যেমন বাচ্চাদের দেখাশোনা করলেন, কাপড় চোপড় ধুলেন, বাড়িঘর পরিস্কার করলেন, থালা বাসন গোছালেন, রান্নায় সাহায্য করলেন, বাইরে থেকে নাস্তা কিনে আনলেন, গাড়ির জন্য পেট্রোল কিনতে গেলেন অথবা ঘরেই স্ত্রীর সঙ্গে বসে টেলিভিশনে তার প্রিয় অনুষ্ঠান দেখলেন।
খুব বেশিরকম আপস কিংবা দ্বন্দ্ব এড়ানোর আরেকটি দুর্দান্ত উপায় হল, ‘বলা’ এবং ‘শোনা।’ পরস্পরের সঙ্গে কথা বলুন এবং পরস্পরকে শুনুন।
স্বামী-স্ত্রীর উদ্বেগ, সাফল্য, অনুভূতি শুনুন এবং জানুন।
জানুন পরস্পরের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আর
আবেগ অনুভূতি।
পরস্পরের এই জানাজানি আপনাকে আপনাকে আপনার প্রতিশ্রুতির কাছে নিয়ে যাবে, সমর্থন জোগাবে। তখন আপনার সঙ্গীটি স্বতস্ফুর্ততায় আপনার মূল্যায়ন করবেন।
নিজেদের এই যোগাযোগ, সহযোগিতা মূর্ত করে তুলবে যে আপনি তার প্রতি যত্নশীল। এসব ছোটখাট আচরণ সম্পর্কর মাঝে আপোষকামীতা নির্মাণ করে। যেটা আসলে পরবর্তীতে স্নিগ্ধ ভালোবাসাময় দাম্পত্য জীবন নির্মাণের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।
-ইংরেজি থেকে অনুদিত।
(ছবিঃ মাইকেল যেপেচকি / হাফিংটন পোস্ট ক্রিয়েটিভ ল্যাবস)



