প্রবাস

বাংলাদেশ সোসাইটি থেকে মামলাবাজদের বহিস্কার দাবী

রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের এক নির্বাচনী সভায় একটি প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচন বন্ধের পায়তারা ও নির্বাচন বন্ধ করার অশুভ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার ঘোষণা আর ২১ অক্টোবর রোববারে নির্বাচনের বিষয়ে মামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটি থেকে মামলাবাজদের বহিস্কার দাবী করা হয়েছে। সেই সাথে নির্বাচন পর্যন্ত ‘রব-রহুল’ প্যানেল মাঠে থেকে জয়ী হয়ে ঘরে ফিরবে বলে প্রত্যাশাও করা হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।

ব্রুকলীনের একটি রেষ্টুরেন্টে গত ১৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। সোসাইটির রোববারের (২১ অক্টোবর) নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ার কারণে নির্বাচনী সভা প্রতিবাদ সভায় রূপ নেয়। ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপবিষ্ট থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুর রব মিয়া, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সোসাইটির ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সদস্য হাজী মফিজুর রহমান ও এমাদুল হক কামাল, ‘রব-রুহুল’ প্যানেলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আজিমুর রহমান বুরহান, যুগ্ম আহ্বায়ক বাসেত রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন ছাড়াও চট্টগ্রাম। এছাড়াও সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজু মিয়া, সহকারী কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মিরন ও ক্রীড়া সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর, কোম্পানীগঞ্জ, দাগণভূঁইয়া সমিতি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সহ কমিউনিটি নেতা জাহাঙ্গীর সোহরাওয়াদী, জাহাঙ্গীর উদ্দিন, নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু।
সভায় কামাল আহমেদ নির্বাচন বিষয়ে আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সবার মন ভারাক্রান্ত। প্রাক্তন আর বর্তমান মামলাবাজরা মিলে আমাদের আশা ভঙ্গ করেছেন। এতে সোসাইটি ৭৫ হাজার ডলারের উপর ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তিনি বলেন, মামলার বাদী-কে আদালতে না দেখলেও আলী ইমাম, কাজী মিলন ও আব্দুর রহীম হাওলাদারকে আদালতে দেখেছি। তিনি বলেন, সোসাইটির ট্রাষ্টিবোর্ড আর কর্মকর্তাদের কাজ কাজ মামলায় জড়ানো নয়। ‘রব-রহুল’ প্যানেলের প্রতি কমিউনিটির সমর্থন বেড়ে যাওয়ায় তাদের মাধা খারাপ হয়ে গেছে। তবে নির্বাচন হবে, মাঠ ছাড়লে চলবে না, আমারা জয় নিয়েই ঘরে ফিরবো।

আজিমুর রহমান বুরহান মামলাবাজদের কমিউনিটির দূষ্কৃতকারী হিসেবে উল্লেখ করে মামলাবাজরা সোসাইটির ইতিহাসের আস্তকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এমদাদুল হক কামাল বলেন, আমরা কন্সট্রাকসনের কাজ করেম ট্যাক্সি চালিয়ে কাজ করে পকেটের অর্থে নির্বাচন করি। কিন্তু সোসাইটির নির্বাচনে এমনও প্রার্থী দেখছি, যারা বিপুল অর্থ দিয়ে নির্বাচন করছে। কোথা থেকে আসে তাদের অর্থ?

আব্দুর রব মিয়া বলেন, গত তিন মাস ধরে নিউইয়র্কের পথে-প্রান্তরে নির্বাচনী প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রবাসীদের যে সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছি তার ঋন শোধ করতে পারবো না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে নয়, আরো আগে মামলা হলে লক্ষাধিক ডলার সেভ হতো। তিনি বলেন, ‘রব-রহুল’ প্যানেলে প্রতি ভোটারদের সমর্থন দেখেই তাদের মাথা খারাপ হয়েছে। আমরা নির্বাচনী মাঠে আছি, নির্বাচনী মাঠেই থাকবো।

রুহুল আমীন সিদ্দিকী বলেন, সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত হওয়াতে আমাদের আনন্দ নিরানন্দ হয়েছে। আগে ব্রুকলীন ছিলো মামলাবাজদের জায়গা, এখন মামলাবাজ কুইন্সে ঢুকেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বড় ভাই কাজী আজহারুল হক মিলন, আলী ইমাম শিকদার ও আব্দুর রবহীম হাওলাদার ব্রুকলীনের কংলকের বোঝা কুইন্সে নিয়ে গেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের কমিউনিটিতে এমনও নেতা আছেন যাদের জন্য এক জেলায়, আর নেতৃত্ব দেন আরেক জেলায়। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে মামলাবাজদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

সভায় বক্তারা নির্বাচন বিষয়ে শেষ মূহুর্তে একটি প্যানেলের মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী সহ সোসাইটির তিনজন সদস্য কর্তৃক মামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাকারী এবং মামলা দায়োর নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাদের চিহ্নিত কারারও দাবী উঠে।

সভায় বক্তারা ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের প্রার্থীদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্যানেলে বিজয়ের ভয়েই তারা মামলার পথ বেছে নিয়েছে। তারা সোসাইটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে।

বক্তারা বলেন, ব্রুকলীনের জন্য একটি সুদিন আসছিলো। এবারের সোসাইটির নির্বাচনের সভাপতি পদপ্রার্থী তিনজনই ছিলেন ব্রুকলীনবাসী। তাই আমরা ব্রুকলীনের কাউকে না কাউকেই সভাপতি হিসেবে পেতাম। বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনের দু’দিন আগে আদালতের উছিলায় সোসাইটির সর্ববৃহৎ ভোটারের নির্বাচন বন্ধ করে কার লাভ হলো। আর নির্বাচন বন্ধের কারণে যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হলো এর দায় কে নেবে।

বক্তারা বলেন, আজ হোক, কাল হোক সোসাইটির নির্বাচন হবেই হবে। তাই ‘রব-রহুল’ নির্বাচনী মাঠ ছাড়বে না। তারা মাঠে থেকেই ভোটারদের মন জয় করে বিজয় ছিনিয়ে আনার পাশাপাশি সোসাইটির বিরুদ্ধে, নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আর মামলাবাজদের চিহ্নিত করে তাদেরকে সোসাইটি থেকে বিতাড়িত করবে। সভায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension