
লীগের মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকা থেকে ‘হেভিওয়েট’ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য বাদ পড়ছেন। গত শনিবার থেকে এমন জল্পনা কল্পনা চলে আসছে। আবার অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীই মৌখিকভাবে মনোনয়নের ইঙ্গিত পেয়ে এলাকামুখী হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় সূত্রগুলো এমন তথ্যই নিশ্চিত করছে।
হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেরই মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের একাধিক দলীয় সূত্র বলছে, নিজ এলাকায় ভোটার ও কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্নতা হেভিওয়েটদের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। অবশ্য সবচেয়ে বড় কারণ হল, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রাখতে কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকে নিজেই মনোনয়ন দিতে চান না আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দীর্ঘদিন দিন ধরেই শেখ হাসিনা বলে আসছিলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এ জন্য ৫ থেকে ৬টি দেশি বিদেশি জরিপ পর্যালোচনা করা হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এমন তথ্য জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ৪৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বাদ পড়েছিলেন।
বুধবার ২১ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয় নি। অলরেডি আমরা মৌখিকভাবে ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির সাথে কথা বলেছি। মনোনয়ন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে; কিছু প্রস্তুতি আছে, তালিকা তৈরির কাজ বাকি আছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি আছে।’ জোটগতভাবেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও এ সময় জানান কাদের।
অবশ্য গত কয়েক দিন আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলোতে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাকে দেখা যায় নি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জনবিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক কেন্দ্রীয় ও হেভিওয়েট এবার বাদ পড়ছেন এটা সত্য। অনেকে এলাকায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলে ওসব এলাকায় নেতৃত্ব বিকশিত হতে দলের অপেক্ষকৃত তরুণ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এটাও মনে করেন, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে এবার মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের নিম্নমুখী জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি চিন্তাদর্শন কাজ করেছে। টানা দুই মেয়াদ সরকারে থাকার ফলে আওয়ামী লীগে যে সাংগঠনিক ভাটা পরেছে তা পূরণ করতেই তাদের এবার মনোনয়ন তালিকা থেকে দূরে রাখা। এ বিষয়ে দলের আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা দল, জনগণ ও নেতা-কর্মীদের কথা চিন্তা করেই নেবেন।
গেল রোববার থেকে যাদের বাদ পড়ার বিষয়ে দলের নেতাদের মধ্যে জল্পনা কল্পনা চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু প্রমুখ। আরও দুজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থিতা ‘ঝুলন্ত’ অবস্থায় আছে বলে দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের দুই বিতর্কিত সংসদ সদস্য কক্সবাজার-৪ আসনে আবদুর রহমান বদি ও টাঙ্গাইল-৩ আসনে আমানুর রহমান রানা বাদ পড়ছেন বলে জানিয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজার (নড়াইল-২ আসন থেকে) মনোনয়ন নিশ্চিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। বদির আসনে তাঁর স্ত্রী এবং রানার আসনে তাঁর বাবা মনোনয়ন পাচ্ছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মাদারীপুর-৩ আসনে দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। এ আসনে বর্তমান সাংসদ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তবে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে ঢাকার একটি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। মাগুরা-২ আসনে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ টি এম আবদুল ওহাব।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও তাঁর নির্বাচনী এলাকা থেকে (সিলেট-১) তাঁর ভাই এম এ মোমেন এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মনোনয়ন পাওয়ার কথা আলোচনায় আছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর আসনে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলেও দলে গুঞ্জন রয়েছে। দলীয় কোন্দলের কারণে বাদ পরতে যাচ্ছে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমন আলোচনাও রয়েছে দলের মধ্যে।
এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা গণমাধ্যমে চলে এসেছে। কিন্তু ওবায়দুল কাদের সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পত্রপত্রিকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তা তাদের মনগড়া। এর কোনও বাস্তবতা নেই। এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থীকে মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় নি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে কেউ দল বা জোটের প্রার্থী দাবি করতে পারবেন না।
এদিকে অনেকেই মৌখিকভাবে মনোনয়নের ইঙ্গিত পেয়ে এলাকামুখী হচ্ছেন বলেও আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে তারা ঢাকা ছাড়ছেন।



