
সার্কভুক্ত দেশগুলোতে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাতে চিঠি পাঠাবে ইসি
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে চিঠি পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। সার্কভুক্ত দেশগুলো নিয়ে গঠিত ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোসা) সকল সদস্য দেশের নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল ২৫ নভেম্বর রোববার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ইসি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা পদ্ধতি সহজ করার নির্দেশনা দেয় কমিশন।
গেল শনিবার বিদেশি সাংবাদিকদের বিষয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এসময় প্রয়োজনে সাংবাদিকদের আগাম ভিসা দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
জানা গেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে মিডিয়া সেল স্থাপন ও তাদের জন্য তথ্য প্রাপ্তি এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত নিতে রোববার বৈঠকে বসে কমিশন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশি সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আনতে চায় কমিশন। তাই ফেমবোসাভুক্ত দেশ – ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশে নিবাচন পর্যবেক্ষণে ইচ্ছুক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশন থেকে ক্লিয়ারেন্সের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনগুলো যাচাই বাছাই করে যোগ্য পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ ক্ষেত্রে যাতে দ্রুত এ প্রক্রিয়া নেওয়া হয় সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেহেতু বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আবেদনের পর খুব বেশি সময় থাকবে না, তাই দ্রুত যাচাই বাছাইয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাচাই বাছাই শেষে সহজ প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় কমিশন।
এছাড়াও যেসব দেশে বাংলাদেশের মিশন নেই সেসব দেশের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা করার বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকা আসছে। এই দুই বিশেষজ্ঞই ব্রাসেলসে ইইউর সদর দপ্তরে তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মাদ জাভেদ পাটোয়ারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের সঙ্গে তারা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষণ করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ৫৯৩ জন বিদেশি, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ২২৫ জন বিদেশি, ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিদেশি ২৬৫ জন ও ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৫৯ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।



