
‘খালেদা জিয়া আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না’
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতে দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে বিএনপির ৫ নেতার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে আপিল বিভাগে দন্ড স্থগিত বা বাতিল হলেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দন্ড হলে সেই দন্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়।
এদিকে, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। কিন্তু খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিয়ে এখন এখনও অনেকটা অনিশ্চিয়তা রয়ে গেছে। কারণ বিএনপির ৫ নেতার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট যে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে তা যদি খালেদা জিয়ার জন্যও বহাল থাকে তাহ্ললে বলাই যায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
যদিও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা ও অর্থদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৮ নভেম্বর রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী নওশাদ জমির।
অন্যদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়ায় সংশয় দেখা দিয়েছে তার দলের সদস্যপদ থাকার যোগ্যতা নিয়েও। কেন না বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী আদালতে দন্ডিত কারও দলের সদস্যপদ থাকার যোগ্যতা থাকবে না। তবে দুই মামলায় একটিতে ১০ বছর আর একটিতে ৭ বছর দন্ড হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা বাতিল করে সংশোধিত যে গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বিএনপি, সেটি গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে উচ্চ আদালত। এর ফলে খালেদা জিয়ার বিএনপির দলীয় পদে থাকাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোনও দণ্ডিত ব্যক্তি যখন নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন তখনই রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা থাকে আইনি ব্যাখ্যা সাপেক্ষে এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা খারিজ করার। মনোনয়নপত্র যদি কোনও কারণে খারিজ হয়ে যায়, তাহলে সেই ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের কাছে আপীল করতে পারেন। কিন্তু সে আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ । এর নিষ্পত্তি হতে হতে নির্বাচন শেষও হয়ে যেতে পারে। এমন কিছু হলে বলাই যায় খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত। এখন দেখার বিষয় কি ঘটতে যাচ্ছে খালেদার ভাগ্যে।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।



