
যে ৩০টি কারণে নির্বাচনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ছোট-বড় ৩০টি কারণে নির্বাচনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।
এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাতিল হয়েছে সবচেয়ে বেশি জনের মনোনয়নপত্র। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জালিয়াতি করার অভিযোগে বাতিল হয়েছে ৩২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা। মনোনয়নপত্র বাতিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ ঋণখেলাপি। ঋণখেলাপের দায়ে বাতিল হয়েছে ১২৯ জনের মনোনয়নপত্র। তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা। এ কারণে বাতিল হয়েছে ৬০ জনের মনোনয়নপত্র।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইসিতে আসা তথ্য থেকে জানা যায়, লাভজনক পদে থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, অসম্পূর্ণ ফরম জমা দেয়া, ১ শতাংশ ভোটার সঠিক না থাকা, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপিসহ ৩০ কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, দলের মনোনয়নের প্রমাণ না থাকার কারণে ৫৪ জন, লাভজনক পদে থাকায় ৪৬ জন, বিলখেলাপির দায়ে ৩৯ জন, রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ৩১ জন, তথ্য গোপনের জন্য ২৪ জন, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে ১৬ জন, নমুনা স্বাক্ষরে মিল না থাকার কারণে ৫ জন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলার কারণে ৫ জন, হলফনামায় ভুল তথ্য ও তথ্যে গড়মিলের কারণে ৫ জন, সমর্থক প্রার্থীর আসনে ভোটার না হওয়া, অবসরের পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়া, চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার হওয়া, নোটারি পাবলিকেশনে স্বাক্ষর না থাকার কারণে ২ জন করে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, একজন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরে অমিল থাকা, অনিবন্ধিত দলের প্রার্থী হওয়া, প্রস্তাবক ও সমর্থক একই ব্যক্তি হওয়া, জামানতের টাকা না দেওয়া, অনলাইনে দাখিল করলেও বাছাইয়ের সময় মূল কপি দাখিল না করা, প্রার্থীর নাম ও আসন নম্বর ফ্লুইড দিয়ে পরিবর্তন করা, ভোটার তালিকায় প্রার্থীর নাম না থাকা, মনোনয়নপত্র ঘষামাজা করা ও ফ্লুইট দিয়ে মোছা, প্রস্তাবক ও সমর্থক সঠিক না থাকা, প্রার্থীর ভোটার নম্বরে ভুল করা, বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় প্রার্থীর নিজের নাম না থাকা, তফসিল ঘোষণার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর না দেওয়া।
এর বাইরে আরও একাধিক কারণে কিছু মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মোট ৩০ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যে দলীয় পরিচয়ে জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৪৯৮টি মনোনয়ন জমা পড়ে। ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয় ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩৮৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে বিএনপির বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫৫ জনে ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৭৮জনে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৭৯ জন। তবে ৩৯টি আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ১৩টি আসনে বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই।
মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষিত প্রার্থীরা ৩ ডিসেম্বর সোমবার ইসি আপিল দাখিল শুরু করেছেন। আজ বুধবার ৫টা পর্যন্ত আপিল আবেদন করা যাবে। আর আগামীকাল থেকে ইসি আপিল শুনানি শুরু করবে। এ কার্যক্রম চলবে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ।



