বাংলাদেশবিনোদন

আমজাদ হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অনুরোধ

 
 
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক, গীতিকার ও অভিনেতা আমজাদ হোসেনের মরদেহ আজ শুক্রবার ২১ ডিসেম্বর দেশে আসছে। তার মরদেহ ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আমজাদ হোসেনের জেষ্ঠ্যপুত্র সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে আব্বার মরদেহ প্রথমে আদাবরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। পরদিন শনিবার সকাল ১১টায় শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। বেলা ১২টায় নেওয়া হবে এফডিসিতে এবং পর্যায়ক্রমে চ্যানেল আই ভবনে ও বিটিভি কার্যালয়ে নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাবার লাশ কোথায় দাফন করা হবে, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয় নি। আমরা আজ পারিবারিকভাবে মিটিংয়ে বসব। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসবে তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নাকি জামালপুর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’
 
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দোদুল বলেন, ‘আমার বাবা আমজাদ হোসেন বিএনপি রাজনীতি করা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সম্মান দিয়েছেন এ ঋণ আমি সারাজীবনে শোধ করতে পারব না। গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কাজকে মূল্যায়ন করে এবার তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। চাষী নজরুল ইসলাম বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কাজকে মূল্যায়ন করে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি এদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বাবার জন্য শেষ চাওয়া রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সুযোগ দেন।’
 
ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেন গত ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। আমজাদ হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর রাতে ঘুমের মধ্যে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। দ্রুতই তাঁকে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির দিন থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অসুস্থতার খবর শুনে তার পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৭ নভেম্বর রাত ১টায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থ আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যান তাঁর দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমান।
 
ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তার অবস্থা পরিক্ষা করে তাঁকে প্রথমে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয় নিউরো সার্জন ড. টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে। ভর্তির পরপরই তাঁর চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রথমদিকে তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। আমজাদ হোসেন ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক, গীতিকার ও নাট্যনির্মাতা।তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। তাঁর নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুন নিয়ে খেলা, নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, ভাত দে, গোলাপী এখন ঢাকায়, গোলাপী এখন বিলেতে, সুন্দরী, দুই পয়সার আলতা, জন্ম থেকে জ্বলছি ইত্যাদি।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension