
পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অবিলম্বে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অবিলম্বে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা ও তার দ্রুত মীমাংসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের এলাকা সফরসহ মোট তিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধ্বস পরাজয়ের পর থেকেই নিয়মিত বৈঠক করে আসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলেও রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বসেন তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তারা। ওই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। বৈঠক শেষে ফ্রন্টের নতুন কর্মসূচি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জাতীয় সংলাপ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা এবং নির্বাচনের সময় যে সমস্ত এলাকায় নেতাকর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেসব এলাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সফর করবেন। গণসংযোগ করবেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের বালাগঞ্জে যাব। যেখানে আমাদের এক কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের লিখিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারে নি। ফলে জনগণ নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণার শুরুতে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অপব্যবহার করে এবং সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
ড. কামাল আরও বলেন, বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনগণ যে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাই করে নিতে পারত, সেই নির্বাচন হয় নি। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী বলেন, আগামী ১১ তারিখের পর থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করবেন। প্রথমে যাবেন সিলেটের বালাগঞ্জ। যেখানে ভোটের দিন আমাদের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম মেম্বার জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।



