
লোকসভা নির্বাচনে ১১৭ আসন নিয়ে চিন্তায় বিজেপি
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ১১৭টি আসন নিয়ে চিন্তা রয়েছে বিজেপি শিবিরের। এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিসংখ্যান। ওই আসনের ফলের উপরে অনেকটাই নির্ভর করছে গেরুয়া বাহিনীর ভবিষ্যৎ।
২০১৪ সালের ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল এনডিএ সরকার। সেই সময়ে নির্বাচনের প্রধান মুখ ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেশ জুড়ে উচ্চারিত হচ্ছিল মোদী মন্ত্র। যার উপরে ভর করেই সরকার গড়েছিল বিজেপি শিবির।
গত পাঁচ বছরে সেই মোদী ম্যাজিক ফিকে হয়ে গিয়েছে। এমনই দাবি করে বিজেপি শিবির। তবে সেই দাবি অবশ্য গুরুত্ব দিতে আরাজ বিজেপি এবং গেরুয়া বাহিনী। সেই যুক্তি মেনে নিলেও ২০১৯ সালের নির্বাচনের যাত্রা খুব একটা সহজ হচ্ছে না পদ্ম শিবিরের। ফের মোদী সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল খুব কম। যার মধ্যে প্রায় ২০০টি আসন দখল করেছিল বিজেপি পরিচালিত এনডিএ শিবির। এর পিছেন মোদী ঝড় বড় ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

৯৮টি আসনে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়েছে পাঁচ শতাংশেরও কম ব্যবধানে। যার মধ্যে ৩০টিও আসন পেয়েছিল বিজেপি। ১০ শতাংশের কম ব্যবধানে নির্ধারিত হওয়া আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে গিয়েছিল ৭৩টি লকসভা আসন। গত লোকসভা নির্বাচনের ১৬১টি আসনে প্রার্থীর জিত-হার নির্নয় হয়েছে ২০ শতাংশেরও কম ভোটে। যার মধ্যে বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছিল ১১৭টি আসনে।
এই সকল সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রগুলির উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং কর্ণাটকে অবস্থিত। আর এটিই বিজেপির কাছে চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ইতিমধ্যেই ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি। অনেক চেষ্টা করেও কর্ণাটজকে সরকার গঠন করা যায়নি। আর উত্তর প্রদেশে সরকারে থাকলেও বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারের।
এই অবস্থায় জোট প্রার্থীদের কাছে পরাস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বিজেপি প্রার্থীদের। কারণ এত কম ব্যবধানে জেতার অর্থ হচ্ছে বিরোধী ভোটের ভাগ হয়ে যাওয়া। ২০১৯ সালে অনেক বিরোধী দল জোট গঠন করেছে। উত্তর প্রদেশে সপা-বিএসপি জোট করেছে, আসন সমঝোতাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সেই জোটের যাত্রা অব্যাহত থাকলে হোঁচট খেতে হতেই পারে মোদী-অমিত শাহ জুটিকে। যা ফের কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।



