আন্তর্জাতিকপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে প্রতিশ্রুত দেয়াল নির্মাণের জন্য তিনি এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স।

এদিকে এ ঘটনায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন টেক্সাসের তিন ভূমিমালিক। তাদের অভিযোগ, দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ট্রাম্প দেশের সংবিধান লঙ্ঘণ করছেন এবং তাদের জমি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

এর আগে সংবিধান লঙ্ঘণ করে এ ধরনের জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরা।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে টিভিতে সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো থেকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে মাদক, অপরাধী এবং অবৈধ অভিবাসীর ঢল ঠেকিয়ে দেশকে সুরক্ষিত রাখতেই তিনি জরুরি অবস্থার আদেশে সই করছেন।

সীমান্তের ওই পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তায় অনেক বড় হুমকি উল্লেখ করে ট্রাম্প তা ঠেকাতে ‘দেয়াল কাজে আসবে’ বলে দাবি করেন। জরুরি অবস্থা জারির ফলে ট্রাম্প সামরিক কিংবা দুর্যোগ খাতের মতো বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ দেয়াল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিতে পারবেন।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ছিলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাবাদ দমন ও সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ওই দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তখন তিনি মেক্সিকো সরকারের কাছ থেকে এই দেয়াল নির্মাণের অর্থ নেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু মেক্সিকো তা দিতে অস্বীকার করলে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের দারস্থ হন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ডেমোক্র্যাট সদস্যদের বিরোধিতার মুখে তার এ প্রস্তাব ঝুলে যায়।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়ালের নির্মাণের বরাদ্দ নিয়ে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত বিরোধের জেরে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে শাট ডাউন বা বন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অধিকাংশ কার্যক্রম। এই শাটডাউন দীর্ঘ ৩৫ দিন বহাল ছিলো।

পরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সমঝোতার ভিত্তিতে অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পায় মার্কিন সরকার। কিন্তু ওই সমঝোতা চুক্তিতে নাখোশ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপরই তিনি দেয়াল নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা জানান।

ডেমোক্রেটরা ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে ট্রাম্প ‘ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার’ ও ‘বেআইনী কার্যক্রম’ করতে যাচ্ছেন ।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করলে তা আইনী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

বৃহস্পতিবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘জরুরি অবস্থা জারি হবে একটি বেআইনী কাজ, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার। এটি হবে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙার একটি মরিয়া চেষ্টা, যেখানে দেয়াল নির্মাণের অর্থ মেক্সিকোর কাছ থেকে আদায়ের কথা দিয়েছিলেন তিনি। তিনি মেক্সিকোকে রাজি করাতে পারেননি। এখন মার্কিন জনগণ ও তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তিনি তার এ অকার্যকর ও ব্যয়বহুল এ দেয়ালের অর্থ নিতে চান। করদাতাদের অর্থে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করতে এখন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের চারপাশ ঘিরে মরিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

সূত্র: রয়টার্স/বিবিসি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension