
বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন মমতা: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: নজরুল মঞ্চ থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সমালোচনা করে মমতা৷ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷ আশেপাশে এরকম কাউকে অশান্তি ছড়াতে দেখলে পুলিশে খবর দিন৷ এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা দেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সহ সভাপতি সুরেন্দ্রর জৈন৷ হুমকির সুরে তিনি বলেন, ‘বাংলায় আগুন নিয়ে খেলার চেষ্টা করবেন না মমতা৷’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ বাংলার মাটিতে সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিটি অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিছু ভোটের জন্য উনি প্রথমে বাংলার নাগরিকদের হিন্দু মুসলমানে বিভাজিত করেন৷ বাংলায় হিন্দুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিনত হয়েছে৷ বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন মমতা৷ বাংলায় হিন্দুদের উপর অত্যাচার হতে দেবে না বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷ মমতা অন্যদের ওপর গুন্ডামির অভিযোগ লাগাচ্ছেন কিন্তু দু’বার সুপ্রিমকোর্ট এবং হাইকোর্ট ওঁকে আয়না দেখিয়েছে৷’
বাংলায় হিন্দুদের প্রতি রাজ্য সরকারের বৈমাত্রীসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে জৈন বলেন, ‘মমতা বাংলায় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছেন৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যকর্তাদের সরাসরি আক্রমণের প্ররোচনা দিচ্ছেন৷’’ মুখ্যমন্ত্রীর উপদেশ মতো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কর্মকর্তাদের ওপর আইনের জাল পড়লে তারা কী ব্যবস্থা নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলার পুলিশ ওর হাতের পুতুল এটা সবাই জানে৷ কিন্তু হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট আছে৷ হিন্দুদের সঙ্গে অন্যায় হলে মানুষ রাস্তায় নামবে৷’
সম্প্রতি কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদর দফতরে এসেও মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন জৈন৷ ওই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সিকন্দর শাহ, কালাপাহাড়রা নন বরং সবচেয়ে বেশি মন্দির বাংলায় ভেঙেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অবশ্য এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনে পড়ে কিছুটা নরম সুরে জৈন জানিয়েছিলেন, এই তথ্য গুগলে পেয়েছেন। ওই সময় তার বক্তব্য ছিল, ‘দেখুন মন্দির ভাঙার বিষয়টি আমি বলছি না, গুগলে দেখাচ্ছে। আপনারাও চেক করে নিন। হিন্দুদের সবচেয়ে বেশি মন্দির কে ভেঙেছেন এই প্রশ্ন লিখে গুগল সার্চ করে আমি ভেবেছিলাম সিকন্দর শাহ কিংবা কালাপাহাড়ের নাম আসবে। কিন্তু অবাকভাবে ওখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আসছে।’



