
আইনজীবীদের হাতে নিগ্রহ, মৌন মিছিলে সামিল হাওড়ার সাংবাদিকরা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: আইনজীবীদের হাতে সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ। হাওড়ায় মৌন মিছিল করলেন জেলার সাংবাদিকরা। স্মারকলিপি দেওয়া হল জেলাশাসকের হাতে। তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন৷
গত ২৪ এপ্রিল হাওড়া কোর্ট চত্বরে আইনজীবী ও পুরকর্মীদের সংঘর্ষে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। ইটবৃষ্টি, বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া থেকে শুরু করে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছিল ওইদিন। খবর সংগ্রহে গিয়ে সেদিন মারমুখী আইনজীবীদের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক।
এর একদিন পর হাওড়া আদালত চত্বরে খবর সংগ্রহে গিয়ে ফের একদল আইনজীবীর হাতে প্রহৃত হন এক প্রবীণ চিত্র সাংবাদিক। সাংবাদিকদের উপর এই নক্কারজনক বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ হাওড়ার সাংবাদিকরা এক মৌন মিছিল করেন।
হাওড়া জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে হাওড়া ময়দান ফ্লাইওভার থেকে মিছিল শুরু হয়। এরপর ওই মিছিল বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। পরে জেলাশাসকের হাতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আইনজীবী ও পুরকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে হাওড়া কোর্ট চত্বর। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ইটবৃষ্টি শুরু হয় এলাকায়। পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ৫ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হন।
আইনজীবীদের হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। অফিসটাইমে হাওড়া পুরসভার গেট দিয়ে টোটো ঢোকানো এবং মোটরবাইক পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আইনজীবীদের বচসা শুরু হয়। এবং তা থেকে দু’পক্ষ গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হাতাহাতি। এরপর ইঁটবৃষ্টি শুরু হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। দুজনের মাথা ফেটে যায়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়া পুরসভা চত্বর। খবর পেয়ে হাওড়া ও শিবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
এর প্রতিবাদে আইনজীবীরা পুরসভার গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে৷ সকালের দিকে এই ঘটনার পর ফের বিকেলে পরিস্থিতি আবারও রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। গেটের বাইরে থেকে আইনজীবীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে গেটের ভিতর থেকে পাল্টা বিক্ষোভ দেখায় পুরকর্মীরা। এই নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফের আবারও ইটবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠিচার্জের পাশাপাশি পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে চালায়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।



