ভারত

অযোধ্যা মামলায় রায়দানের পরই রাম মন্দির তৈরির প্রস্তুতি শুরু মোদী সরকারের

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: শনিবার বিতর্কিত অযোধ্যা মামলা রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানানো হয়েছে বিতর্কিত জমিতে মন্দির তৈরি হবে। সুপ্রিম রায়ের ঠিক দু’দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ট্রাস্ট তৈরির তোরজোড় শুরু করা হয়ে গিয়েছে। যারা মন্দির তৈরির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে অর্থমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আমলা, মন্ত্রীরা এই বোর্ডের অংশ হবে যারা ট্রাস্ট তৈরি থেকে তা কিভাবে কায করবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আরও জানা যাচ্ছে, যারা এই বোর্ডের অংশ হবে তাঁদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ভাল করে পড়ে নিয়ে, কোন কোন পক্ষকে যোগ করা যাবে তা জানতে বলা হয়েছে। আইনমন্ত্রক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপালের থেকে আইন পরামর্শ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আইনমন্ত্রক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। কীভাবে ট্রাস্ট গঠন করা হবে, যারা মিলিতভা্বে ঠিকভাবে অযোধ্যায় রামমন্দির গড়ে তুলতে পারবে”। তিনি বলেন, “হিসেব করার কাজ চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি”। অন্য আরেক আধিকারিক বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাকি সংস্কৃতি মন্ত্রক, কারা ট্রাস্টের নোডাল বডি হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার কেন্দ্রের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, যেহেতু একটি অত্যন্ত রাজনৈতিক স্পর্শকাতর বিষয়, সেই কারণে, প্রাপ্য সময় পুরোটাই নেওয়া হবে যাতে একটি শক্তপোক্ত রাস্তা বের করা যায়। দীর্ঘদিনের এই মামলা অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, চলতি মাসে পরের দিকে, বরাদ্দ করা জমি গ্রহণ করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার ঐতিহাসিক এবং সর্বসম্মত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বিতর্কিত অংশের ২.৭৭ একর জমি যাবে রাম লালা বা ভগবান রামচন্দ্রের জন্য। ট্রাস্ট তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা দেয় প্রধানবিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

বাবরি মসজিদ ভাঙা হয় ১৯৯২ –এর ডিসেম্বরে, তার আগে পর্যন্ত সেই জায়গাটি রামচন্দ্রের জন্মভূমি বলে বিশ্বাস হিন্দু আন্দোলনকারীদের, সেই জমি মামলার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিশ্চিত হয়েছে যে, মসজিদের আগে একটি নির্মাণ ছিল, তবে সেটি মন্দির ছিল কিনা, তা বলা হয়নি। ১,০৪৫ পাতার রায়ে, মসজিদের অধিকার থেকে মুসলিমদের অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে মান্যতা দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension