
মহারাষ্ট্রে বিজেপির পরাজয়, মুখমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে কূটনীতিতে বড় ধরনের পরাজয় হয়েছে মোদির দল বিজেপির। ভেস্তে গেছে দলের সভাপতি ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কূটকৌশল। মঙ্গলবার উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের অল্প সময় পরেই পদত্যাগ করেন ওই রাজ্যের ৮০ ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। এবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে চলেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।
মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট নতুন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। বুধবার বেলা ৫টার মধ্যে তার সরকারকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সময়সীমা বেধে দেয় ভারতের সের্বাচ্চ আদালত। এই রায়ের অল্প সময় পরেই পদত্যাগ করেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। পরে একই পথ বেছে নেন মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসও।
মঙ্গলবার রাতেই মুম্বইয়ের পাঁচতারা হোটেলে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস বিধায়কদের বৈঠকে জোটের নেতা নির্বাচিত হন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনিই শপথ নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে।
রাজ্য সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাটিল ও কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানান শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের নেতারা। জোটের দাবি মেনে নিয়েছেন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার শিবাজি পার্কে শপথগ্রহণের জন্য উদ্ধবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন রাজ্যপাল।
এর আগে তিন দলের জোট যখন মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখনই আচমকা শনিবার রাতের অন্ধকারে মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং অজিত পওয়ার। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় তিন দলের জোট। জরুরি ভিত্তিতে রোববার মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন ভি রমণ, বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চে। ওই দিন রাজ্যপালকে দেওয়া ফডণবীসের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণের চিঠি এবং রাজ্যপালের সরকার গঠনের আহ্বানের চিঠি জমা দিতে বলে আদালত।
সোমবার ফের সেই মামলার শুনানি হয় তিন বিচারপতির বেঞ্চে। শুনানিতে বিজেপি দাবি করে, তাদের কাছে ১৭০ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। অন্য দিকে, শিবসেনা, কংগ্রেস, এনসিপি জোটের পাল্টা দাবি করে, তাদের জোটকে সমর্থন করছেন বেশির ভাগ বিধায়ক। দু’পক্ষই আদালতে নিজেদের দাবির স্বপক্ষে চিঠি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেয়।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফডণবীস সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে আরো বলা হয়, অতি দ্রুত প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করে বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে আস্থা ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে দেবেন্দ্র ফডণবীসকে। আর কোনো গোপন ব্যালট নয়, সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে সেই আস্থাভোট প্রক্রিয়া।
এই রায়ে বিপাকে পড়েন ফডণবীস। কেননা আস্থা প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত বিধায়ক সদস্য তাদের পক্ষে ছিল না। ফলে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেন শনিবার তড়িঘড়ি করে শপথ নেয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনাকে বিজেপি তথা দলের সভাপতি অমিত শাহের পরাজয় হিসাবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেননা এর আগে মহারাষ্ট্রে আকস্মিক সরকার গঠনের ঘটনাকে বিজেপি সূত্র দলের বিরাট বিজয় হিসাবে দাবি করেছিল। বিজেপির একটি সূত্র বলেছিলো,‘নিঃশব্দে নেপথ্যে থেকে বাজিমাত’করেছেন দলীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু শেষতক তিনি হেরে গেলেন কংগ্রেস-বিজেপি দলের নেতাদের কাছে।



