বাংলাদেশ

স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র

রূপসী বাংলা ডেস্ক:জঙ্গি-জামায়াত বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, স্ত্রীরই পরিকল্পনাতেই খুন হয়েছেন রংপুরে চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক নাগরিকসহ বিভিন্ন মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী রথিশ চন্দ্র বাবু সোনা। পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর তাজহাট মোল্লা পাড়ার একটি বাসা থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জনপ্রিয় এই আইনজীবী স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন এমন সন্দেহে নিহত রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিক, কন্যা অদিতি ভৌমিক এবং দীপা ভৗমিকের কথিত প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পরিবারের দাবি অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় বাসা থেকে বের হন নিহত আইনজীবী রথিশ চন্দ্র বাবু সোনা। কিন্তু পুলিশের ধারণা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কারণ বৃহস্পতিবার রাত দশটা ২২ মিনিটে সর্বশেষ তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তখন তার অবস্থান ছিল স্টেশন এলাকায়। সেই থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। কিন্তু রথিশের স্ত্রীর পুলিশ-র‌্যাবকে জানায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার একটি মোটর সাইকেলে চেপে চলে যান। আসলে রতিশ চন্দ্র নিখোঁজ ছিলেন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। তাকেই ওই রাতেই হত্যা করে একটি বাড়ির মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

জানা গেছে, ক্লুবিহীন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে চরম অন্ধকারে পড়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি-জামায়াত, জমিজমা বিরোধ, ব্যক্তিগত এবং হিন্দু ট্রাস্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। উদ্ধার না হওয়ায় নানা কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে উঠে রংপুর।

এদিকে, দফায় দফায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক রথিশের বাড়িতে যান। সেখানেই তাদের প্রাথমিক সন্দেহ হয়।

জানা গেছে, পুলিশ কয়েক দফায় রথিশের স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে কথার বলার সময় অনেকটা স্বাভাবিক ছিলেন। নিখোঁজের বিষয়টিতে তারা খুব একটা আমলে নেননি।

পুলিশের ওই সূত্রটি জানায়, পরিবারের  পক্ষ থেকে শুক্রবার সকালে নিখোঁজের বিষয়টি দাবি করা হয়। আর মোবাইল কল লিস্টে দেখা যায় বৃহস্পতিবার রাত দশটায় সর্বশেষ কথা বলেন তিনি। এরপর তার ফোনে আর কল যায়নি বা আসেনি। ওই কল লিস্ট অনুযায়ী রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিকের সহকর্মী ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল ইসলামকে আটক করা হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশের সূত্রটির দাবি, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৩ বার কথা বলতেন কামরুল ও দীপা ভৌমিক।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল ইসলাম পরকীয়া এবং খুনের বিষয়টি স্বীকার করলে র‌্যাব দীপা ভৌমিককে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নেয়। তার তথ্যের ভিত্তিতেই র‌্যাব-পুলিশ যৌথভাবে দীপা ভৌমিক প্রেমিক কামরুল ইসলামের ভাই খাদেমুল ইসলাম জাফরির বাড়ি থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিকসহ স্বজনরা পায়ের জুতা দেখে বাবুর লাশ শনাক্ত করেছেন।

রংপুর র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বি আইনজীবী রথিশের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীপার পরকীয়ায় খুন হন নরথিশ চন্দ্র। তার তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা রথিশের লাশ উদ্ধার করি।

রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্ত্রী দীপাই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন।

এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তার সহকর্মীরা। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

আইনজীবী রথিশ চন্দ্রের নিখোঁজের ঘটনায় গত পাঁচ দিন থেকে বিক্ষোভ মানববন্ধন সবশেষে গতকাল মঙ্গলবার গণঅনশন করে আগামী শনিবার রংপুর রাজশাহী বিভাগে সড়ক অবরোধের হুমকি দেয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ওই হুমকির ঠিক ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রথিশ চন্দ্রের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত রথিশ চন্দ্রের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension