যুক্তরাষ্ট্র

জর্জ ফ্লয়েডকে মায়ের কবরের পাশে দাফন

বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ও মার্কিন পুলিশ সংস্কারের জোরদার দাবির মধ্যেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে সোমবার টেক্সাসের হিউস্টনে মানুষের ঢল নামে। আজ মঙ্গলবার হিউস্টনেই মা লরেন্সিয়া ফ্লয়েডের পাশেই তার দাফন করা হবে।

টেক্সাসের হিউস্টনেই বড় হয়েছেন ফ্লয়েড। শহরের স্থানীয় ফাউন্টেন অফ প্রেইজ চার্চের সঙ্গে তার বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেই চার্চে রাখা ছিল ফ্লয়েডের দেহ সংবলিত কাসকেটটি। ফ্লয়েড পরিবারের সবাই এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আত্মীয়স্বজন।

খবরে বলা হয়, কাঠফাটা ও ঘাম ঝরানো গরম উপেক্ষা করেই সকাল থেকে চার্চে ভিড় করতে থাকে মানুষ। সবাই শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ। সেখানেই জর্জের ভাই ফিলোনিস ফ্লয়েড বলেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার পাব। পাবই।’ বলতে বলতে চোখ জলে ভরে গেল তার।

ফ্লয়েডকে হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ১৬তম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে পথে নেমেছেন তরুণ ও যুবকরা। পনেরো-ষোল থেকে তিরিশ-পঁয়ত্রিশ বছর বয়সীরাই বেশি।

নিউইয়র্কের বিক্ষোভকারী ভিডাল গুজম্যান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘এটা হল তরুণ-যুবাদের বিপ্লব। আমরা তরুণ, যুব। আমাদের এনার্জি বেশি। আমরা বিশ্বাস করি আমরা যা করছি, ঠিক করছি।’

হোয়াইট হাউসের পাশেও বিক্ষোভ হচ্ছে। তবে সোমবার লোক অনেক কম ছিল। কয়েকশ’ লোক জমায়েত হয়েছিলেন সেখানে। এদিকে আমেরিকাজুড়ে পুলিশ সংস্কারের দাবি উঠেছে।

প্রতিটি শহরে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি হল, পুলিশি সংস্কার করতে হবে, দরকার হলে পুলিশ বিভাগই তুলে দিতে হবে এবং তাদের বাজেটে ব্যাপক কাটছাঁট করতে হবে।

গত ২৫ মে ফ্লয়েডকে গলায় হাঁটু চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চৌভিন। হত্যায় তাকে সহযোগিতা করেন আরও তিন অফিসার।

হত্যার দায়ে সোমবারই আদালতে উঠানো হয়েছিল চৌভিনকে। মিনেপোলিসের এই বরখাস্ত অফিসারের জামিনের জন্য জামানত ঠিক হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ মামলায় তার ৪০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ⛘

এএফপি, আল জাজিরা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension