নিউ ইয়র্কপ্রবাসবাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র

ফাহিম সালেহর ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে।

ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস হ্যাসপিল

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী ২১ বছর বয়সী টাইরেস হ্যাসপিলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার চার্জ (ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

করোনা পরিস্থিতির কারণে নিউইয়র্কের আদালতে ভার্চ্যুয়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ম্যানহাটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড সন্দেহভাজন খুনি টাইরেস হ্যাসপিলকে আদালতে উপস্থাপন করে বলেন, হোমডিপো নামের দোকান থেকে হ্যাসপিলের কেনা ইলেকট্রিক করাত ও ধোয়ামোছার সরঞ্জামাদি ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া গেছে।

ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আদালতকে বলেন, সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে সন্দেহভাজন খুনিকে যে পোশাকে দেখা যায় সেটি হ্যাসপিলের ব্রুকলিনের বাড়িতে পাওয়া গেছে।

এছাড়া পুলিশের তদন্ত দল হ্যাসপিলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করতে পেরেছে বলেও জানান অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড।

তিনি বলেন, ফাহিম সালেহর হত্যার সঙ্গে হ্যাসপিলের জড়িত থাকার জোরাল প্রমাণ আছে। সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ভিডিও থেকে অন্তত দুজন শনাক্তকারী হ্যাসপিলকে শনাক্ত করেছেন।

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড আদালতে বলেন, টাইরেস হ্যাসপিল তরুণ প্রযুক্তিবিদ ফাহিম সালেহর অন্তত ৯০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশ বা আইনি আশ্রয়ে না গিয়ে সালেহ কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন।

প্রসিকিউশন এখনও হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের ধারণা, অর্থের লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিষয়ই এর পেছনে কাজ করছে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহ

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, চুরি করা অর্থ থেকে হ্যাসপিল কোনো অর্থ ফেরত দিয়েছেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ দেনাই খুন করার জন্য তাকে প্ররোচিত করেছে কি না, অর্থ ফেরত প্রদানে অনিচ্ছুক হলে পুলিশে রিপোর্ট হওয়ার ভয়ে এমন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিচারক জোনাথন সভেটকি জামিনের সুবিধা ছাড়াই হ্যাসপিলকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। টাইরেস হ্যাসপিলকে আগামী ১৭ আগস্টে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

গেল ১৫ জুলাই ম্যানহাটনে নিজের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন ৩৩ বছর বয়সি ফাহিম সালেহ।

লিফটের সিকিউরিটি ক্যামেরায় দেখা গেছে, অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে ফাহিমের সঙ্গেই প্রবেশ করেছিল সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরিহিত হত্যাকারী। পুলিশ যাকে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লিফটে সে ফাহিমের সঙ্গে কিছু কথাবার্তাও বলেছিল।

লিফট থেকে বের হওয়ার পর ফাহিমের পেছনে আসা হত্যাকারী তার হাত উঁচু করে। এরপরই ফাহিম মেঝেতে পড়ে যান। পুলিশের ধারণা, হত্যাকারী ট্যাজার গান দিয়ে বৈদ্যুতিক শক ছুঁড়ে মারায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন ফাহিম।

লিফটের দরজা এরপর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরপরের ঘটনাগুলোর ভিডিও রেকর্ড পাওয়া যায় নি। পরে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে নিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অনুমান পুলিশের।

নিউ ইয়র্ক সিটির ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, গলা ও কাঁধে একাধিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয় ফাহিম।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চিফ অব ডিটেকটিভ রডনি হ্যারিসন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টাইরেস হ্যাসপিল একজন উদীয়মান তরুণ। সে খুন করেছে আরেক উদীয়মান তরুণকে। যাকে স্মরণকালের সেরা নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড বলা যেতে পারে।

ডিটেকটিভ রডনি হ্যারিসন বলেন, খুন করার পর খুনি কিছু আলামত রেখে গেছে। যার ফলে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম করেছি। ফাহিমকে যেখানে হত্যা করা হয় সেখানে বেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে অ্যান্টি-ফেলন শনাক্তকরণ কার্ড পেয়েছি- এই কার্ড টেজারে ব্যবহার করা হয়। এসব অতি ক্ষুদ্র কাগজে সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। ফাহিম একজন ইয়ং মিলিওনিয়ার। আমেরিকায় তার ইনভেস্টমেন্ট আছে। এভাবে তাকে মেরে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।❑

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension