যুক্তরাষ্ট্র

চীন-যুক্তরাষ্ট্র উসকে দিলেন ট্রাম্প

বিদায়ের আগে আগে চীনের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও একটু উসকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বছর দুই আগে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিরোধ তীব্র হয় দুই পরাশক্তির। এরপর মহামারির শুরু থেকে তাতে যোগ হয় নতুন মাত্রা। ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, করোনাভাইরাস চীনের তৈরি। জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে পেইচিং। চলমান এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্যেই নতুন একটি বিলে সই করে পেইচিংয়ের তোপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে পেইচিং।

বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন এবং তিব্বতের পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করে একটি বিল পাস করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। গত রবিবার সেই বিলে স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে পেইচিং-ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চরম অবনতি ডেকে আনবে বলে এই বিলে স্বাক্ষর করা থেকে ট্রাম্পকে বিরত থাকতে আহ্বান জানায় চীন হয়। কিন্তু তা পাত্তা না দিয়ে রবিবার তা আইনে পরিণত করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিল পাসের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই আইন চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এই নতুন আইন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে পেইচিং। অন্যদিকে ভারতের নির্বাসিত তিব্বত সরকার বা সেন্ট্রাল তিব্বত অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রেসিডেন্ট ‘লোবসাং সাঙ্গে’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই আইন তিব্বতিদের পক্ষে আশা ও ন্যায়বিচারের শক্তিশালী বার্তা।

তিনি বলেন, তিব্বতি জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ রক্ষার অধিকার এবং তিব্বতি গণতন্ত্র সুনিশ্চিতে মার্কিন সমর্থন জোরদার করেছে এই আইনে।

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা আইন তিব্বতকে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃত দিয়ে সেখানকার প্রধান শহর লাসায় মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। ১৪তম দালাই লামার উত্তরসূরি ১৫তম দালাই লামার নিয়োগে চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমিউনিস্ট দলের হস্তক্ষেপ রোধেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। বর্তমান দালাই লামাকে চীনের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে দেখে পেইচিং। নির্বাসিত দালাই লামা থন্ডুপকে বিপজ্জনক ধর্মীয় নেতা অ্যাখায়িত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

আইনে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তিব্বতিদেরই শেষ কথা বলার অধিকার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনে চীন সরকার এবং দালাই লামার মধ্যেও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিব্বতে চীনা হস্তক্ষেপ কমাতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের লক্ষ্যেই মার্কিন সরকার এ আইনটি আনল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৫০ সালে পিপলস লিবারেশন বা ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ অভিযানের নামে তিব্বত দখল করে নেয় চীন। চীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করেছিলেন দালাই লামা। সেই বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৫৯ সালের এপ্রিল মাসে হাজার হাজার অনুগামীকে নিয়ে ভারতের ধর্মশালায় পালিয়ে আসেন ১৪তম দালাই লামা। ভারতে বর্তমানে ৮০ হাজারের বেশী তিব্বতি বসবাস করেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন ১ লাখ ৫০ হাজারের মতো নির্বাসিত তিব্বতি। প্রায় দুই বছর তুমুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ধাপের চুক্তিতে সই করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে কিছুদিন পরই করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চুক্তি বাস্তবায়ন থমকে যায়। প্রযুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি শুরু হয় কভিডযুদ্ধও।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension