প্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

পদত্যাগের চাপে ট্রাম্প, নয়ত ইমপিচমেন্ট

শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি থাকার মেয়াদে চূড়ান্ত রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ আছে আর মাত্র ১২ দিন। তার আগেই তাকে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে নয়ত তার ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি  হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন মেয়াদ শেষের আগেই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পকে সরিয়ে দিতে। এমনকি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। এছাড়া ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের এমন উদ্যোগে সমর্থন দিতে পারেন। রাজনীতিবিদদের এমন প্রক্রিয়ার বাইরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্পের অপসারণ চাইছেন তারা। তবে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার ইচ্ছা নেই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের।

অন্যদিকে, ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের হামলা নিয়ে সুর পাল্টেছেন ট্রাম্প। হামলাকারীদের ‘জঘন্য আক্রমণকারী’ হিসাবে তিনি মন্তব্য করেছেন। অপরদিকে তিনি নতুন প্রশাসনের হাতে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বুধবারের হামলার পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর এএফপি, সিএনএন, নিউজ ডটকম ও বিবিসির।

মার্কিন রাজনীতিবিদরা বলছেন, বুধবার কংগ্রেস ভবনে সমর্থকদের হামলার দায় ট্রাম্প এড়াতে পারেন না। এ কারণে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে তাকে পদচ্যুত করা মার্কিন গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই জরুরি। ট্রাম্পকে সরাতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে চিঠি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। চিঠিতে তারা লিখেছেন, হামলা চালিয়ে ‘গণতন্ত্রের অবমাননা’ করেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ট্রাম্পকে এখনই অপসারণ করে ভাইস-প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা নিতে হবে।

ট্রাম্পকে অতি সত্বর অপসারণের ডাক দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এজন্য তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর জরুরি ব্যবহারের তাগিদ দেন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের পেলোসি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যতক্ষণ হোয়াইট হাউজে বসে আছেন ততক্ষণ আমরা খুব কঠিন অবস্থায় আছি। তিনি ট্রাম্পকে এখনও দেশটির জন্য বিপজ্জনক মনে করছেন। তিনি আরও বলেন, বুধবার তিনি যেভাবে বিদ্রোহ করেছেন তাকে অবশ্যই অফিস থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্পকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।

হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য ক্যাথলিন রাইস টুইট করেন- মন্ত্রিসভাকে অবশ্যই সংবিধানের ২৫ নম্বর অধ্যাদেশ আহ্বান করতে হবে। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ক্যাপিটলের ওপর দেশীয় সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প)। গণতন্ত্রের পক্ষে উনি বিপজ্জনক। অবিলম্বে তাকে পদ থেকে সরানো দরকার। মন্ত্রিসভার উচিত ২৫ নম্বর সংশোধনী কার্যকর করা। নিক ক্রিস্টেনসেন টুইট করে বলেছেন- হয় ২৫ নম্বর অধ্যাদেশ আহ্বান করতে হবে, অন্যথায় ইমপিচমেন্ট জরুরী।

বুধবার ক্যাপিটল হিলে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালান ট্রাম্প সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্পের উস্কা‌নিতেই এ হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরা আলোচনায় বসেন। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল পেন্সও ছিলেন।❐

এএফপি, সিএনএন 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension