
সমীক্ষা: করোনা ভাইরাস পুরুষের শুক্রাণুর গুণগত মান কমাতে পারে
করোনা ভাইরাস পুরুষের শুক্রাণুর গুণাগুণ কমিয়ে দিতে পারে বলে এক গবেষণায় জানানো হয়েছে।
এছাড়া এই ভাইরাস পুরুষদের মধ্যে ফার্টিলিটি ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে বলে সম্প্রতি গবেষণা লব্ধ এ তথ্য জানিয়েছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা শুক্রবার একটি জার্নালে জানান, শুক্রাণু কোষের মৃত্যু ঘটাতে পারে করোনা। এ ভাইরাসটি জ্বলুনি এবং তথাকথিত অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। জার্নালে বলা হয়, ‘এই আবিষ্কার প্রথম প্রত্যক্ষ ও পরীক্ষামূলক প্রমাণ করেছে যে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ক্ষতি করতে পারে কোভিড-১৯।’
‘পুরুষদের মধ্যে উর্বরতার সঙ্গে আপোস করার ক্ষমতাও রয়েছে ভাইরাসটির।’
কোভিড -১৯ বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তিদের এবং কারোর আভ্যন্তরীর শারীরিক সমস্যা থাকলে তাদের শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণ হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে মধ্য চীনে এ রোগের উদ্ভবের পর থেকে বিশ্ব ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। রোগটি ফুসফুস, কিডনি, অন্ত্র এবং হৃদয়কে আক্রমণ করে। এটি পুরুষ প্রজনন অঙ্গগুলিকে সংক্রামিত করতে পারে। শুক্রাণু কোষের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং প্রজনন হরমোনগুলিকে ব্যাহত করে। ভাইরাসের যে রিসেপ্টর ফুসফুস টিস্যুতে পাওয়া গিয়েছে সেই একই রিসেপ্টর অণ্ডকোষে পাওয়া গিয়েছে।
তবে পুরুষদের পুনরুৎপাদন করার ক্ষমতার ওপর ভাইরাসের প্রভাব বিস্তার করতে পারে কিনা সেটি এখনও অস্পষ্ট।
জার্মানির জাস্টাস-লাইবিগ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেহজাদ হাজিজাদেহ মালেকি এবং বখতিয়ার তারতিবিয়ান জৈবিক চিহ্নগুলি অনুসন্ধান করেন । এটি ফার্টিলিটির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে। এই গবেষণাটি ১০ দিনের ব্যবধানে ৬০ দিন ধরে চালানো হয়েছে। ৮৪ জন কোভিড আক্রান্ত ও ১০৫ জন সুস্থ পুরুষের নমুনা নিয়ে গবেষণাটি করেন বিজ্ঞানীরা।
কোভিড -১৯ রোগীদের মধ্যে শুক্রাণু কোষগুলি জ্বলন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের চিহ্ন উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। এটি একটি রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে যা দেহের ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করতে পারে। শুক্রাণু কোষের ওপর এই প্রভাবগুলো শুক্রাণুর গুণগত মান এবং উর্বরতার সম্ভাবনা হ্রাস করে দেয়।। যদিও গবেষণায় বলা হয়, এই সমস্যা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। তবে কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে এই উপসর্গগুলো উল্লেখযোগ্য এবং অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে। রোগ যত মারাত্মক হবে, এক্ষেত্রে তত বড় পরিবর্তন আসবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোভিড -১৯ সংক্রমণে পুরুষের প্রজনন ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গ হিসাবে ঘোষণা করা উচিত।
গবেষণায় জড়িত নয় এমন বিশেষজ্ঞরা গবেষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এও বলেছেন যে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও কিছু গবেষণার দরকার ছিল।
ব্রিটেনের কেএআরই ফার্টিলিটি গ্রুপের ভ্রূণতত্ত্ব পরিচালক অ্যালিসন ক্যাম্পবেল বলেছেন, ‘পুরুষদের অযৌক্তিকভাবে আশঙ্কা করা উচিত নয়।’
তিনি লন্ডনভিত্তিক বিজ্ঞান মিডিয়া সেন্টারে বলেন, ‘শুক্রাণু বা পুরুষ প্রজনন সম্ভাবনার পক্ষে কোভিড -১৯ এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কোনও সঠিক প্রমাণ বর্তমানে পাওয়া যায় নি।’❐



