
দিল্লির পার্কে মৃতদেহ পোড়ানোর চিতা
শবদাহের জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অসংখ্য অস্থায়ী চিতা বসানো হচ্ছে। রাজ্যটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে।
মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে টালমাটাল অব্স্থায় ভারত। সোমবার (২৬ এপ্রিল) একদিনেই দিল্লিতে করোনায় ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মেডিকেল অক্সিজেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও জীবন-রক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি প্রকট আকার নিয়েছে।
ভারতে মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।-খবর এনডিটিভির
মঙ্গলবার আক্রান্তের সংখ্যা হালকা কমেছে। আগের দিন যেখানে ছিল তিন লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন, এদিন সেখানে তিন লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
যদিও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সত্যিকার সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশ থেকে তোলা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ছবিতে শব পোড়াতে অসংখ্য চিতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি পত্রিকায় যে খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হচ্ছে।
তবে করোনায় মৃত্যুর সরকারি যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, সত্যিকারের সংখ্যা তার চেয়ে আলাদাই দেখা গেছে।
শহরের পৌর সংস্থা ও সাতটি শ্মশানে ঘুরে দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি বলছে, করোনায় সরকারি মৃত্যুর হিসাবে অন্তত এক হাজার ১৫০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
দিল্লি পৌরসভা পরিচালিত ২৬টি শ্মশান থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে তিন হাজার ৯৬ জন করোনা রোগীর মরদেহ এসব শ্মশানে দাহ করা হয়েছে।
অথচ একই সময়ে এক হাজার ৯৩৮ করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে দিল্লি সরকার। অর্থাৎ এক হাজার ১৫৮টি মৃত্যুর হিসাব সরকারের খাতায় নেই।
ভারতে রাতভর কাজ করে যাচ্ছেন শ্মশানকর্মীরা। মৃতদের স্বজনরাও কাঠ জড়ো করে, শাস্ত্রীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে শবদাহে সহায়তা করছেন।
দিল্লিতে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায়, পার্কে ও খোলা মাঠেও চিতা স্থাপন করতে চাচ্ছে। মরদেহ দাফনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্বজনদের।
রাজধানীর সরাই খালি খান শ্মশানে ২৭টি নতুন প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছে। আর পার্ক এলাকার বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে আরও ৮০টি স্থাপনা যোগ করা হচ্ছে।
যমুনা নদীর তীরের কাছে আরও জায়গার খোঁজ করছেন কতৃপক্ষ। ২২ মরদেহ পোড়ানোর সক্ষমতার একটি শ্মশানের কর্মী বলেন, তারা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শবদাহ করে যাচ্ছেন।
দিল্লির উপকণ্ঠ গাজীপুরের একটির শ্মশানে নতুন করে ২০টি চিতা যোগ করা হয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, সেখানে এত বেশি মরদেহ আসছে যে, আরও অনেক চিতা তৈরি করতে হবে। মরদেহ পোড়াতে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অন্যান্য শ্মশানের পরিস্থিতিও খুবই খারাপ। গাজীপুরের শ্মশানে বিপুল সংখ্যক মরদেহ জড়ো করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর সনদ নিতে স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
এক শ্মশানকর্মী বলেন, যেসব রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে মারা গেছেন, তাদের হিসার রাখা হচ্ছে না।
গাজীপুর শ্মশানের কর্মী অনুজ বানশাল বলেন, হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আনা হচ্ছে। বাড়ি থেকেও আসছে। আমরা কেবল শ্বাসপ্রশ্বাস জটিলতায় মৃত্যুর রিপোর্ট দেখলেই তালিকাভুক্ত করি।
তিনি বলেন, কারণ বাড়িতে কেউ মারা গেলে, তার করোনা হয়েছিল কিনা; তা আমরা নিশ্চিত হতে পারি না। তাই স্বাভাবিক মৃত্যু লিখে দিই।
বাবার মরদেহ দাহ করতে চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন মনীষ ও নীল গুপ্ত। তিনি করোনায় মারা গেছেন। মনীষ গুপ্ত জানান, তার বাবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘অক্সিজেনের অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন। বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়েছি, তারা সবাই আমার বাবার চিকিৎসা করতে চাননি। ফিরিয়ে দিয়েছে।’❐



