ডাক্তার সাবিরা রহস্য এখনও উদ্ঘাটন হয় নি, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয় নি। তিন দিন ধরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখলেও খুনি কে, কেনই বা তাকে খুন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না। এ জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রয়েছেন ওই চিকিৎসকের একাধিক ঘনিষ্ঠজনও। এরই মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আভাসও দিয়েছেন তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার সকালে রাজধানীর কলাবাগানে প্রথম লেনের ৫০/১ নম্বর বাড়ির তৃতীয়তলার ফ্ল্যাট থেকে ডা. সাবিরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুর দিকে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ধারণা করা হলেও পরে দেখা যায়, ওই চিকিৎসকের গলায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ক্রাইমসিনের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সাবিরাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহে আগুন ধরিয়ে আলামত লুকানোর চেষ্টা হয়েছে।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর সাবিরার ফ্ল্যাটের সাবলেট বাসিন্দা এক তরুণী, তার বন্ধু, বাড়ির দারোয়ান ও গৃহপরিচারিকাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। বুধবার পর্যন্ত তাদের আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। লাশ উদ্ধারের ৩৬ ঘণ্টা পর কলাবাগান থানায় সাবিরার মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে এতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয় নি।
পুলিশের নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহেনশাহ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, তারা তদন্তের স্বার্থে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নানা তথ্য পাচ্ছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, হেফাজতে থাকা ওই চারজনকে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার আগে বা পরে বাসায় কারা ঢুকেছিল, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তারা। তাদের মধ্যে দারোয়ান একেক সময়ে একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। এ জন্য সন্দেহ বাড়ছে।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, চারজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে সাবিরার স্বামী শামসুদ্দিন আজাদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাবিরার আগের সংসারের একমাত্র সন্তান ২১ বছর বয়সী আজোয়ারকে বাসায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ :এদিকে সাবিরা রহমান লিপিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৮ জুলাই দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মামলার এজাহার থানা থেকে আদালতে আসে। ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী মামলার এজাহার গ্রহণ করেন। কলাবাগান থানার এসআই গোলাম রাব্বানীকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, তারা রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন। স্বজনরাও কিছু বলতে পারছেন না। তারাও এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছু পাননি। তবে সব দিক নিয়েই তদন্ত চলছে।❐



