যুক্তরাষ্ট্র

১০২ মিনিটে আমূল পাল্টে গেল পৃথিবী

রূপসী বাংলা ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলাটির নাম পরিচিত ‘নাইন ইলেভেন।’ এ বছর এ হামলার ১৭তম বার্ষিকী।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রর ওপর হামলা চালিয়েছিল ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়দা। সেদিন সন্ত্রাসীরা চারটি বিমান ছিনতাই করে সেগুলোকে মিসাইল হিসেবে ব্যবহার করে একসঙ্গে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনে।

মাত্র ১৯ জন সন্ত্রাসী এই চারটি বিমান ছিনতাই করে সেগুলোকে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করে এবং জন্ম দেয় ইতিহাসের ভয়াবহতম অধ্যায়ের। দুটি বিমান আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার নামে পরিচিত দুটি ভবনে। দুই ঘণ্টার মধ্যে ভবন দুটি মাটিতে ধসে পড়ে।

তৃতীয় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে। এ হামলায় ভবনের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ ধসে পড়ে। চতুর্থ বিমানটির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনে হামলার। কিন্তু যাত্রীদের প্রতিরোধের সময় বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

এ হামলায় সেদিন প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। আহত হয় আরও ১০ হাজার মানুষ।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করে। এ লড়াইয়ে দু’টি দেশের ওপর সামরিক আগ্রাসন চলে, এবং আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এ হামলার জন্য আল কায়েদা জঙ্গিদের দায়ী করে পরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। শুরু হয় ‘ওয়ার অন টেরর’ (সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ)। এ ঘটনাই পাল্টে দেয় বিশ্ব রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে আজ যে দুর্দশা তার জন্য অনেকেই নাইন ইলেভেনকে দায়ী করেন। তাছাড়া এর প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।

হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘হয় আমাদের পক্ষে থাকতে হবে, না হলে বিপক্ষে।’

এ ঘটনার জেরেই ওই বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানে হামলা চালানো হয়। পরে ২০০৪ সালে হামলা চালানো হয় ইরাকেও। ইরাক ও আফগানিস্তানে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারায় ৭ হাজার মার্কিন সেনা। লাখো মানুষের মৃত্যু এবং গৃহহারা হওয়ার ঘটনায় বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট। আফগানিস্তান ও ইরাকে এখনো মার্কিন দখলদারিত্ব চলমান রয়েছে।

নিহতদের স্মরণে এবারো জানানো হচ্ছে শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার এ রুটিনওয়ার্ক প্রতি বছর অব্যাহত

আজও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় নাইন ইলেভেন বেঁচে ফিরে আসা ভাগ্যবানদের। কিন্তু আজ অবধি জানা যায় নি এ হামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য। ফলে জানা যায় নি কী ছিল নাইন-ইলেভেনের উদ্দেশ্য। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আক্রমণকারীরা আমেরিকাকে কী বার্তা দিতে চেয়েছিল তাও উদ্ধার হয় নি।

ঘটনার তিন বছর পর মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই হামলা হলো তার কোনো সদুত্তর আজও মেলে নি।

ইরানের দাবি, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে হামলা চালানোর লক্ষ্যে গোয়েন্দা কারসাজি করে এই নাটক সাজানো হয়েছে। হামলার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন অভিযান চালিয়ে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল।

নাইন-ইলেভেনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি রোষানলের শিকার হয়েছে মুসলমানরা। তাদের প্রতি সবসময় অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে। যদিও এর পেছনে শক্তিশালী কোনো যুক্তি এখনও উত্থাপন করতে পারে নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি স্মরণ করা হয়। কিন্তু আজও ম্লান হয় নি স্বজন হারানোর স্মৃতি। নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার স্থলে নির্মিত হয়েছে ন্যাশনাল সেপ্ট. ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম। হতাহতের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতি বছর মার্কিনিরা নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে সমবেত হন। নীল বাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করবেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের। এবারও হবেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension