পরিবেশযুক্তরাষ্ট্র

কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ. কোরিয়ার ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল

কার্বন নিঃসরণ কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল আশা জাগাচ্ছে। ৯২ হাজার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের মাধ্যমে কীভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে দেশটির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় তার চেষ্টা চলছে।

নবায়নযোগ্য শক্তি এমন শক্তির উৎস, যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। এর ফলে শক্তির উৎস নিঃশেষ হয় না। ব্লুমবার্গ ফোটোভোলটাইক সৌর প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। আর সেটিকেই কাজে লাগানো হয় এই প্রজেক্টে।

নবায়নযোগ্য শক্তিসমূহ পরিবেশবান্ধব এবং কার্বন নিঃসরণমুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় পৌঁছানোর জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদীরা নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।

প্রজেক্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হানওয়া সলিউশন করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, হ্যাপচিওনের দক্ষিণ কাউন্টিতে ১২ মাইল দীর্ঘ জলাধারে ১৭টি দৈত্যাকার জায়ান্ট ফুল ৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। যা ২০ হাজার বাড়িতে আলো পৌঁছে দেবে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনীতি আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। গ্রিনপিস কোরিয়ার জলবায়ু বিশেষজ্ঞ কিম জিসোক বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রচুর পরিমাণে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রয়োজন। ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল এটি সমাধানের একটি অংশ হতে পারে। কারণ, এটি নাগরিকদের মতের বিরোধী নয় এবং কোনো ভূমির দরকার হচ্ছে না।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এই প্রজেক্ট নিয়ে করা একটি অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন-জায়ে ইন বলেছিলেন, যে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ২০৫০ সালের মধ্যে ৯ দশমিক ৪ গিগাওয়াট বা ৯টি পারমাণবিক চুল্লির সমতুল্য বিদ্যুৎ যুক্ত করার সম্ভাবনা আছে। এটি ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বনশূন্যতা বা নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে।

ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল নিয়ে এর আগে কাজ শুরু হয়েছে এশিয়ায়। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল নির্মাণ করে সরবরাহের কাজে লাগিয়েছে। ১ লাখ ২২ হাজার প্যানেলের সমন্বয়ে সিঙ্গাপুরের প্রকল্পটি ৪৫টি ফুটবল মাঠের সমান। এখান থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। তা দিয়ে দেশটির পাঁচটি পানি শোধনাগার চালানো যাবে। থাইল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রো-ফ্লোটিং সোলার হাইব্রিড সিস্টেম নির্মাণ করেছে গত বছর। ভারত ২০২৩ সালের মধ্যে ওমকারেশ্বর বাঁধের ওপরে ৬০০ মেগাওয়াট প্ল্যান্ট সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা করেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension