
সংসদে উত্থাপিত গণমাধ্যম কর্মী আইনকে নিবর্তণমূলক উল্লেখ করে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলছেন, এই আইনে কর্মীদের বদলে মালিকদের স্বার্থই বেশি প্রাধ্যান্য পেয়েছে।
তারা বলছেন, পাস হলে আইনটি গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা দেয়ার বদলে, অধিকার কেড়ে নেবে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হুমকিতে ফেলবে।
মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়েনর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মীদের আনাগোনায় সরগরম ছিল প্রেসক্লাব চত্বর।
আগের রাতেই সংসদে উত্থাপিত হয় গণমাধ্যম কর্মী আইন। আইনটি পাশ হলে সাংবাদিকদের ইউনিয়ন করতে হলে বা ইউনিয়নের সমাবেশ যোগ দিতে হলে মালিকের অুনমতি নিতে হবে।
আছে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কমানোর প্রস্তাবও। তাই আইনটিকে নিবর্তণ মূলক বলছেন গণমাধ্যমের জেষ্ঠ কর্মীরা।
তারা জানান, আগে সপ্তাহে কর্মঘন্টা ছিলো ৪০ ঘন্টা, সেটি করা হয়েছে ৪৮ ঘন্টা। আবার আনুতোষিক ভাতার সময় এক মাস থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।
কোন কর্মীকে চাকরি থেকে অবসায়নের জন্য আগে দুই মাসের নোটিশ পিরিয়ড বা সম মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিলো, সেটি করা হয়েছে এক মাসের।
সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, মালিকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে আগে মালিকের অনুমোদন নিতে হবে, এমন কথা তো হতে পারে না।
প্রস্তাবিত আইনটি পাশ হলে সম্পদকের কর্তৃত্ব ক্ষুন্ন হবে। বাড়বে মালিকদের কর্তৃত্ব। সুরক্ষা দেয়ার বদলে এই আইনে সাংবাদিকের হাত পা বাধার চেষ্টা হয়েছে বলছেন তারা।
আরও পড়ুন: বিমসটেক সম্মেলনে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান প্রধানমন্ত্রীর
তারা বলছেন, এই আইনে সম্পাদকের পরিবর্তে গণমাধ্যমের কর্তৃত্ব চলে যাবে মালিকের হাতে আর সাংবাদিক পরিচয় মুছে গিয়ে তারা শুধুমাত্র কর্মী হিসাবে বিবেচিত হবেন।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই এমন আইন করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
সংসদে উত্থাপিত এই আইনে প্রথমবারের মতো সংবাদপত্র ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোকে একটি আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।



