জাতিসংঘ

বাংলাদেশি রাবাব ফাতিমা হলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। একইসঙ্গে তাকে স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাবাব ফাতিমা স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি জ্যামাইকার কোর্টনি রাতারির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রাবাব ফাতিমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনীতি, নীতিনির্ধারণী, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাবাব ফাতিমা। এর আগে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০১৫-১৬ সালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও কমনওয়েলথে কাজ করেছেন।

১৯৮৯ সালে রাবাব ফাতিমা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি নিউ ইয়র্ক, কলকাতা, জেনেভা ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাবাব ফাতিমা ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের একজন নারী কূটনীতিক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেলেন। এই মুহূর্তে জাতিসংঘ সিস্টেমে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাই হতে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তার এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নিবিড় অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশি পেশাদার কূটনীতিকদের গ্রহণযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় রাবাব ফাতিমা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে এ সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিও কৃতজ্ঞ।

তিনি আরো বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আমার ওপর যে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি কাজের মাধ্যমে তার প্রতিফলন দেখাতে চাই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension