প্রধান খবরবাংলাদেশ

বাংলাদেশে কৃষক হত্যায় ২৪ বছর পর ২১ জনের যাবজ্জীবন

দীর্ঘ ২৪ বছর পর পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরে চাঞ্চল্যকর কৃষক সালাম হত্যা মামলায় ২১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান মুন্নী এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার ভাদুরীডাঙ্গী গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে শাহজাহান মোল্লা, আব্দুল বাছেদ শেখের ছেলে মিনহাজ, শাকের মোল্লার তিন ছেলে ছেলে নবী শেখ, সুলতান মাহমুদ পক্ষী ও মোক্তার, মৃত ছোবা শেখের ছেলে বাছেদ শেখ, ইনাই খাঁর ছেলে আইয়ুব খাঁ, আমির মোল্লার ছেলে আসলাম, গফুর মোল্লার ছেলে লতিফ মোল্লা, রুস্তম মোল্লার ছেলে ছোবাই মোল্লা, বাহাই প্রামাণিকের ছেলে কালাম, আকুল মোল্লার ছেলে মহির মোল্লা, হাচেন মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলী মোল্লা ও রেজাউল মোল্লা, গফুর মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা, সুজানগর উপজেলার চরভবানীপুর গ্রামের করিম মোল্লার দুই ছেলে মোকছেদ মোল্লা ও বারেক মোল্লা, মৃত বশির মোল্লার ছেলে করিম মোল্লা, ভবানীপুর কাছারি মাঠসংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে খোকন, মানিকদিয়ার গ্রামের হবিবরের ছেলে রফিক এবং সদর উপজেলার কোলচুরি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাবলু।

সাজাপ্রাপ্ত ২১ জনের মধ্যে বারেক, মিনহাজ, বাবলু, বাছেদ শেখ, লতিফ মোল্লা, ছোবাই পলাতক। এদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুস সালাম কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই সময় আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ঘিরে ধরে। সালাম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে গুলি করা হয়। সালাম মাটিতে পড়ে গেলে তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই আবদুল জব্বার। পরের বছরে ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। তিনজন আসামির মৃত্যুর ফলে দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ ২১ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলো।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সাক্ষ্য ও তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রামাণিত হয়েছে। আদালত তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতীয়মান হয়েছে।

তবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার পরও এ রায় দেওয়া হয়েছে। আমার মক্কেলরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension