
ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক তথ্য বিনিময়
পারমাণবিক স্থাপনার তথ্য বিনিময় করল ভারত ও পাকিস্তান। ১৯৮৮ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী এই তথ্য বিনিময় করা হলো। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দেশ দুটি একে অন্যের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করবে না। গতকাল রোববার ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বার্ষিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তিন দশকের বেশি সময় ধরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনার তথ্য বিনিময় করার প্রথা চলে আসছে। একই সঙ্গে দুই দেশ ২০০৮ সালের কনস্যুলার অ্যাক্সেস চুক্তি অনুসারে একে অপরের হেফাজতে থাকা বন্দীদের তালিকাও বিনিময় করেছে। ভারত ও পাকিস্তান বছরে দুইবার বন্দী তালিকা বিনিময় করে থাকে।
দুই দেশের পারমাণবিক স্থাপনা ও অবকাঠামোগুলোতে হামলা পরিচালনা না করার জন্য তারা ১৯৮৮ সালে চুক্তি করে। পরে ১৯৯১ সালে এ চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ পরস্পরকে তাদের পারমাণবিক স্থাপনার তথ্য দেবে। ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রথা শুরু হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রতিনিধির কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক প্রতিনিধির কাছে তারা পারমাণবিক স্থাপনাসংক্রান্ত তথ্য তুলে দিয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যু এবং আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনার তথ্য বিনিময়ের এই ঘটনা ঘটল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানে পড়লে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।



