প্রধান খবরভারত

ভারতে গণপিটুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড!

ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। এমনই আইন আনতে চলেছে ভারত সরকার।

শুক্রবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে যে কারণেই হোক, পাঁচ বা তার বেশি সংখ্যক লোক দলবেঁধে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করলে তাদের প্রত্যেকেই শাস্তি পাবে।

অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে, কিংবা কমপক্ষে সাত বছর জেলে থাকতে হবে। দোষীদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে।

ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (ভারতীয় দণ্ডবিধি), কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর ( সিআরপিসি) ও ভারতীয় সাক্ষ্য আইন বা ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্টের পরিবর্তে তিনটি নতুন আইন চালুর লক্ষ্যে শুক্রবার তিনটি বিল এনেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে অমিত শাহ জানান, এই তিন বিলের মাধ্যমে ৩১৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং দেশের আইন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

নারী এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়ে বেশি নজর দিয়ে এই সব পরিবর্তন করা হয়েছে। অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখা হয়েছে।

অমিত শাহ আরও জানান, নতুন বিল পাশ হলে পুলিশ নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না।

তিনি জানান, নতুন বিধানে নাবালিকা ধর্ষণের দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হবে।

এদিকে, গণধর্ষণের ক্ষেত্রে সাজা ২০ বছর থেকে আজীবন এবং গণধোলাইয়ের ক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড।

অমিত শাহ আজ বলন, ‘নারীদের ওপর যারা অত্যাচার করবে এবং গণধোলাইয়ের আসামিদের সাজা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এই বিলে। ধর্ষণের অভিযোগে ভিডিও রেকর্ড করে জবানবন্দি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো কমিউনিটি সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এটি খুবই প্রাসঙ্গিক। এখন এটি আইনে পরিণত করা হবে।’

সংসদে অমিত শাহ বলেন, ‘এই বিলের অধীনে আমাদের লক্ষ্য, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার অনুপাত ৯০ শতাংশের উপরে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে এসেছি। যে যে ধারায় ৭ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে ফরেনসিক দলকে অপরাধস্থলে যেতেই হবে। এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। আমরা নিশ্চিত করেছি যে ৯০ দিনের মধ্যেই যাতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। শুধুমাত্র আদালত বললে তবেই চার্জশিট দাখিল করার জন্য আরও ৯০ দিন পাবেন তদন্তকারীরা।

পুলিশকে এই নতুন আইনের অধীনে ১৮০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। এমনকী বিচারকরাও তাদের শুনানি পিছিয়ে কোনও দোষীর আদেশ বিলম্বিত করতে পারবেন না। এখন ৩০ দিনের মধ্যেই সেই সংক্রান্ত আদেশ দিতে হবে এবং পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension