প্রধান খবরবাংলাদেশ

আসছে নির্বাচনী তফসিল

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তফসিল ঘোষণা ও ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। ইতোমধ্যেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে ৩১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডেকেছে ইসি। পরদিন ১ নভেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে কমিশন সদস্যরা। ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন যে কোনও সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইসির বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভোট হবে ২৭ ডিসেম্বর। কিন্তু পরে এ নিয়ে বিতর্কের মুখে তিনি তার বক্তব্য থেকে সরে আসেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোট গ্রহণের তারিখ হতে পারে ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর অথবা ৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোট নেওয়ার জন্যই দুটি দিন- ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পরই এসব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র আরও জানাচ্ছে, আপাতত ইসি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত না করে খসড়া একটি তফসিল তৈরি করেছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সিইসি ও কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার ওপর

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কমিশন সদস্যদের সাক্ষাতের পর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ৪ নভেম্বর রোববার কমিশনের বৈঠক হতে পারে। এর পরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের সচিব সাংবাদিকদের বলেন, তফসিল কবে ঘোষণা হবে বা কবে ভোট নেওয়া হবে, এসব নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয় নি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলোচনা করে এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, ৪ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে কি-না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার ওপর। ইসির সম্ভাব্য প্রস্তাবে কোনও পরিবর্তন না এলে ৪ নভেম্বরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে ১ নভেম্বরই কমিশন সভার নোটিশ জারি হবে।

ইসির নির্বাচন শাখা সূত্র জানায়, এবার তফসিল ঘোষণার পর ৪৫ থেকে ৪৮ দিন হাতে রেখে ভোট নেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ সমীকরণ অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে ২১ ও ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার)। যে কারণে সাপ্তাহিক ছুটির আগে বা পরের যে কোনদিন ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হতে পারে।

আরপিও সংশোধন হতে পারে অধ্যাদেশ আকারে

ওদিকে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে ইসি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রেখে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া আকারে এ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংসদের চলমান অধিবেশনে এ সংশোধনী ওঠার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ আকারে আরপিও সংশোধন হতে পারে বলে ইসি সচিব গতকাল ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইসি সচিব বলেন, চলতি সংসদে আরপিও না উঠলে অধ্যাদেশের মাধ্যমেও এটি করা হতে পারে। তবে তিনি আশাবাদী, চলতি অধিবেশনেই এটি উঠবে। এদিকে ২৭ অক্টোবর দেশের আটটি অঞ্চলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে পুরো কমিশন ও ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন।

জাতির উদ্দেশে ভাষণের প্রস্তুতি

রেওয়াজ অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার দিন জাতির উদ্দেশে সিইসি ভাষণ দিয়ে থাকেন। ইসির পক্ষ থেকে সেই প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের পক্ষ থেকে তার ভাষণ ইসি কার্যালয়ে রেকর্ড করার কথা রয়েছে। তারপর নির্ধারিত সময়ে তা প্রচার করা হবে। ধারণ করা ভাষণ সাধারণত তফসিল ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় প্রচার করা হয়। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, ৩১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কমিশনের নির্দেশনা পেলে বিটিভি ও বেতারকে তারা এ বিষয়ে জানাবেন।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে ৬০ দিন, দ্বিতীয় নির্বাচনের আগে ৫৪ দিন, তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, চতুর্থ নির্বাচনের আগে ৬৯ দিন, পঞ্চম নির্বাচনের আগে ৭৮ দিন, ষষ্ঠ নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, সপ্তম নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, অষ্টম নির্বাচনের আগে ৪২ দিন, নবম নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন এবং দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪২ দিন সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করেছিল কমিশন।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension