
এক মাসে দুইজনের পদত্যাগ, কলকাতা ট্রাইব্যুনাল ছাড়লেন ৪ বিচারপতি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার তার পদত্যাগে গত এক মাসে এই ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই বিচারপতি। সব মিলিয়ে ট্রাইব্যুনালে শুরুর পর সরে দাঁড়ালেন চারজন।
এর মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রতিদিন প্রায় ২২ কিলোমিটার যাতায়াত করে ট্রাইব্যুনালের কাজে যোগ দেওয়া তার পক্ষে অসুবিধাজনক হয়ে উঠেছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে—এমন ধারণা থেকেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলার কারণে কাজ শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বুঝতে পেরেই তিনি পদত্যাগ করেন। তারও আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ। অন্যদিকে, পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল ছেড়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।
সুপ্রিমকোর্টে রনির্দেশে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে প্রথমে মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের আপিল শুনে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ করে দেওয়াই এই ট্রাইব্যুনালের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিশ্বজিৎ বসুর পদত্যাগের পর বর্তমানে সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। তবে বিচারবিভাগীয় নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো প্রায় ৬০ লাখ মামলার বিষয়টি ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারির আগে রাজ্যে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯। গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তী সময়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে। এই বিপুলসংখ্যক বাদ পড়া নাম-সংক্রান্ত মামলার চাপই মূলত ট্রাইব্যুনালের কাজের পরিধি ও জটিলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিচারবিভাগীয় যাচাইয়ের পর যাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তাদের নামই কেবল সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।



