
দায়িত্ব ছাড়লেন ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক উপদেষ্টা ক্লেভার-ক্যারন
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা মাউরিসিও ক্লেভার-ক্যারন তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি নির্ধারণে এবং ওপেকভুক্ত দেশটির বিশাল তেল সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
মিয়ামি-ভিত্তিক এই ব্যবসায়ী সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে রিপোর্ট করতেন। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ ছিল না, তবুও ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মার্কিন অভিযানের পর থেকে তিনি ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাকে অনেকেই ‘ভাইসরয়’ বা রাজপ্রতিনিধির সাথে তুলনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন ক্লেভার-ক্যারন। তার পর্দার আড়ালের আলোচনার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি আধিপত্যবাদী ভূমিকা গ্রহণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সহসাই দেশটিতে কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সংস্কার বা নির্বাচনের জন্য চাপ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে, কারণ নতুন প্রশাসন মার্কিন ব্যবসার জন্য বেশ নমনীয়।
সূত্র জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টারভিউ পার্টনার্স’-কে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি চুক্তি পাইয়ে দিতে ক্লেভার-ক্যারন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি তেলের চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী নেতাদের মধ্যকার আলোচনার আয়োজনেও সাহায্য করেছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স



