যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের যুদ্ধবিষয়ক বৈঠকের মধ্যেই মার্কিন পাহারার দুই ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে ইরান যুদ্ধ ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর পাহারায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ দাবি করে।

আইআরজিসির দাবি, মার্কিন বিমানবাহিনীর পাহারায় একটি ‘অঘোষিত রুট’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল ট্যাংকার দুটি। ‘নীতি অমান্যকারী’ এসব জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময় আরও চারটি তেলবাহী জাহাজ দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যায় বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে জাহাজগুলোকে নির্ধারিত দুটি রুট ব্যবহার করতে হবে। ইরানের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের রুট ব্যবহার করে অবরোধ অমান্যকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সমুদ্রবন্দর ও জাহাজে নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে হামলা চালিয়ে আসছে।

দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

শুক্রবারও সংঘাত অব্যাহত ছিল। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। একই সময় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর টানেল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের কর্মকর্তারা এ হামলাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করলেও ইসরায়েল বলেছে, উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অভিযান চালানো হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরান যুদ্ধই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সংঘাত ইতিমধ্যে পাঁচ মাসে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক রয়টার্স–ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজনের মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন জনসমর্থন।

যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করতে কংগ্রেসে আনা একটি প্রস্তাব সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে নাকচ হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। এক্সনমবিল জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে। আর শেভরনের মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension