
মেসির জাদুতে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ০–২ থেকে ৩–২, কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তে
শেষ মুহূর্তের তিন গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় এক কামব্যাক
শাহ্ জে. চৌধুরী:
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব সিক্সটিনে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলো এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। মিশরের বিপক্ষে ০–২ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩–২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মিশরের আধিপত্য। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিজোর গোলে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তারা এক ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা খুঁজে পাচ্ছিল না নিজেদের ছন্দ—এর মধ্যে লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি মিস হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগে বদলে যায় সবকিছু। ৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। এরপর ৮৩তম মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করে সমতায় ফেরান দলকে। আর ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে সম্পূর্ণ হয় এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—৩–২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
এই জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কামব্যাক হিসেবেও জায়গা করে নিল।
মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে গোল ও অ্যাসিস্টে দলকে জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে মিশরের জন্য এটি এক হৃদয়বিদারক পরাজয়। ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়া তাদের জন্য বড় আঘাত হয়ে থাকবে।
এ জয়ের মাধ্যমে শিরোপা রক্ষার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়ার।
এই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে—বিশ্বাস, লড়াই আর এক মহান তারকার অনন্য নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে।



